• রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৫ ১৪২৬

  • || ০৪ শা'বান ১৪৪১

ষাট গম্বুজ বার্তা
সর্বশেষ:
বাগেরহাটে ছিটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক পানি বাগেরহাটে হোম কোয়ারেন্টাইনে ১৩২৮ জন ২৭তম স্প্যানে পদ্মা সেতুর চার কিলোমিটারের বেশি দৃশ্যমান করোনায় নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি, সুস্থ আরও ৪ জন টাঙ্গাইলে সিমেন্টভর্তি ট্রাক উল্টে নিহত বেড়ে ৬
৩১

ধৈর্য ধরার আকুতি তামিমের, পছন্দ আগ্রাসী ক্রিকেট

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২০  

২০১১ সালে সাকিব আল হাসানের সহকারী হিসেবে তামিমকে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল এক বছরের জন্য।

সহ-অধিনায়ক থেকে পূর্ণ অধিনায়ক হতে তামিমের লাগলো নয় বছর। এ সময়ে অনেক উত্থান-পতন হয়েছে। তামিম ভেঙেছেন, নতুন করে গড়েছেন নিজেকে। এখন তার সাফল্যের সূর্য মধ্যগগণে। সেরা সময়ে পেয়েছেন দলের নেতৃত্ব-ভার।

দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবার (১৪ মার্চ) প্রথমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক।

অধিনায়কত্বের প্রস্তাব গ্রহণ করার কারণ কী ছিল?

তামিম ইকবাল : এটা সম্মিলিত প্রক্রিয়া। অধিনায়কত্ব নেওয়ার পেছনে আমার একটা কারণ ছিল। আবার বোর্ডের সিদ্ধান্ত থাকে। আমি হই বা অন্য কেউ, আমরা এখন এমন পর্যায়ে আছি, একটা-দুইটা বা তিনটা সিরিজ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করা খুব কঠিন অধিনায়কের জন্য। আমি চেয়েছিলাম লম্বা সময়ের জন্য অধিনায়ক হতে। লম্বা সময় পেলে দলে আপনি একটা ব্যবধান গড়তে পারেন। আর দল হিসেবে যেটা আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—আপনি যদি দেখেন ২০১৫ সালে যখন আমরা পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জিতি, তখন মাশরাফি ভাইয়ের অধীনে আমাদের যে গ্রুপটা ছিল, সেটার মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মালো যে, ‘না, ঠিক আছে। আমরা হারাতে জানি।’

নতুন অধিনায়কের সামনের লক্ষ্য?

তামিম ইকবাল: আমার মনে হয় ওয়ানডে দল হিসেবে আমাদের একটা বড় ম্যাচ জেতা খুব জরুরি। বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে যে, আমরা আবার জিনিসগুলো ভালো করতে পারি। এটাই আমাদের টার্গেট থাকবে। যত দ্রুত আমরা একটা বড় ম্যাচ জিততে পারি, যা দলের জন্য ভালো হবে।

অধিনায়কত্বের প্রেরণা কী হতে পারে?

তামিম ইকবাল: সত্যি বলতে, আমি খুব অভিজ্ঞ অধিনায়ক নই। আমি অনেক জায়গায় অনেকদিন ধরেই অধিনায়কত্ব করছি না। আমার প্রতিও ওটা (বিশ্বাস) রাখবেন। একটু সময় দিতে হবে আমাকে যেকোনো কিছুর। খুব স্বাভাবিক একটা কথা যে, অধিনায়কত্ব কেউ নিলে তার ব্যাটিং পারফরম্যান্স খারাপ হয়ে যায়, এটা ওটা হয়ে যায়। আমি নিজেও জানি না, আজ থেকে ছয় মাস বা একবছর পর কিভাবে আমি পারফরম্যান্স করব। আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়।আপনাদেরও একটু ধৈর্য রাখতে হবে। আমাদের দর্শক যারা আছেন, তাদেরও একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আমার এটাই কাজ থাকবে দলের ভালোর জন্য যা যা করার, আমি তাই করার চেষ্টা করব। আমি সফল হবো কিনা, এটা আমি জানি না। কিন্তু আমি চেষ্টা করবো সবকিছু সঠিক করার। যেকোনো কিছু আপনি এক সিরিজ, পাঁচ-ছয় ম্যাচ দিয়ে বিচার করা কঠিন। বিশেষ করে, অধিনায়কত্ব একেবারে ভিন্ন একটা ব্যাপার। আর আমি এমন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে নিচ্ছি…এটা খুব কঠিন সোজাসুজি ওনার পর্যায়ে চলে যাওয়া। তিনি এত বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার অধীনে আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। সোজাসুজি ওনার পর্যায়ে চলে যেতে পারলে ভালো। আর যদি যেতে না পারি আমাকে আপনাদের কিছু সময় দিতে হবে।

মাঠের বাইরের নেতা এবং সেই সামর্থ্য কতটুকু থাকবে আপনার?

তামিম ইকবাল: দেখুন, আমার মনে হয় অন দ্য ফিল্ড অনেক কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে ।যেটা হলো ‘দ্য টিম কালচার।’ আমরা মাঠের বাইরে কিভাবে চিন্তা করছি বা কতটা পেশাদার আমরা। আমরা মনে হয়, ওই জায়গায় কিভাবে আমরা আরো উন্নতি করতে পারি, সেটাই হবে আমার প্রথম কাজ। জরুরি নয় যে, আমরা ওখানে সব কাজ ঠিকমতো করতে পারি। তার সাথে সাথে ওটার ফল দেখতে পারবেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অবশ্যই দেখতে পাবেন। যদি আমরা মাঠের বাইরের কাজগুলো ঠিক করি। আমরা যদি আরো বেশি শৃঙ্খল হই, আমরা যদি আরও পরিশ্রম করতে পারি, অনুশীলনে যদি ভুল কমাতে পারি, তাহলে ভালো হবে। একটা কথা আছে, কষ্টের ফল কোনো এক সময় পাওয়া যায়। এমন জরুরি না যে, আপনি পরের ম্যাচেই পাবেন। যখন আমি ভাবি যে, কিভাবে এই দলটাকে সামনে এগিয়ে নেব, তখন প্রথম জিনিসই আমার মাথায় আসে তা হল অব দ্য ফিল্ডের বিষয়গুলো। সেটা সবার আগে আমাকে ঠিক করতে হবে। আমরা আরো ভালো কিভাবে করতে পারি। আমরা এখন বড় কোনো সমস্যায় বা শৃঙ্খলায় নেই তা না। আমি মনে করি আমরা বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম একটা সুশৃঙ্খল দল। তবে আমরা আরো ভালো হতে পারি। ওই জিনিসগুলো যদি আমি আগে ঠিক করতে পারি এবং তার প্রভাব মাঠে খেলায় পড়তে থাকে, তাহলে তো ভালো। 

উন্নতির জায়গা কোথায়?

তামিম ইকবাল: শুধু জুনিয়র নয়, সিনিয়র খেলোয়াড়দেরও উন্নতি করার অনেক জায়গা আছে। লিটনের কথা বলি, ও ছয় মাস আগেও যেভাবে চিন্তা করতো, (আমি পারফরম্যান্সের কথা বলছি না) সে ভালো করছে এই কারণে আমি বলছি না। লিটন ছয় মাস আগে যেভাবে চিন্তা করতো, আর আমি এখন ওর সঙ্গে যেভাবে কথা বলি সেটায় অনেক পার্থক্য হচ্ছে। এটার পরিবর্তন আপনারা মাঠেও দেখছেন। এখন যারা তরুণ খেলোয়াড় আছে। তাদের ক্রিকেটের প্রতি অনেক ইতিবাচক চিন্তা। তারা চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে। এই উন্নতির দরকার আছে। যত তাড়াতাড়ি আমরা এইগুলো আরো ভালোর কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারবো, তাহলে আমাদের দলের উন্নতি আরো ভালো হবে।

অধিনায়ক হিসেবে স্বপ্ন?

তামিম ইকবাল: আমি যদি বলি আমি সেরা তিন দলের একটি হতে চাই…এটি অনেক লম্বা একটা প্রক্রিয়া।  আমি শুধু বলার জন্য এটা বলতে চাই না। আমাদের এই মুহুর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ছোট ছোট জিনিসগুলো কিভাবে ঠিক করতে পারি। ট্রেনিং কিভাবে আরও ভালো করতে পারি। দল হিসেবে কিভাবে খেলতে পারি। আমি অন্য খেলোয়াড়ের জন্য কিভাবে অবদান রাখতে পারি, যে আমার সাহায্যে অন্য কেউ আরও ভালো কিভাবে খেলতে পারে। অথবা ওর সাহায্যে আমি ভালো খেলতে পারি। এইসব বিষয় নিয়ে আমি শুরু করতে চাই। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় চিন্তা না করে ছোটখাটো বিষয়গুলো চিন্তা করলে বড় প্রক্রিয়াগুলো আপনাআপনি হয়ে যাবে।

মাঠে আপনার অধিনায়কত্বের দর্শন কী হতে পারে?

তামিম ইকবাল: আমি আক্রমণাত্মক থাকতেই পছন্দ করি। পরিস্থিতি অনেক সময় বুঝতে হবে, আমাদের শক্তিমত্তার বিষয়ও আমাদের বুঝতে হবে। সবকিছু দেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি আপাতত এতোটুকু বলতে চাই এক্ষেত্রে আপনারা একটু ধৈর্য রাখবেন। এক সিরিজ, দুই সিরিজ, কিংবা ৫ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে বাজে অবস্থা হতেই পারে। আশা করি হবে না। আপনারা অধৈর্য হবেন না, দর্শকদের অনুরোধ করবো, আপনারা অধৈর্য হবেন না। আমি এটাই চেষ্টা করবো যেন তাড়াতাড়ি এটা ঠিক হয়ে যায়। আর যদি ছয় মাস, এক বছর কিংবা দেড় বছর হোক আমি যদি দলের জন্য কিছু করতে না পারি, তাহলে অবশ্যই এই দায়িত্ব ছেড়ে দেবো।

কাউকে বোঝাতে হয় ভালোবেসে। কাউকে বকা-ঝকা দিয়ে। তামিমের পছন্দ কোনটা?

তামিম ইকবাল: আমরা সবাই পেশাদার ক্রিকেটার। সবাইকে ভিন্ন ভিন্নভাবে ট্রিট করতে হয়। মুশফিকেক ট্রিট করা আর মাহমুদউল্লাহকে ট্রিট করা এক নয়।আলাদা আলাদাভাবে করতে হয়। আমি এটা বিশ্বাস করি না, সবাইকে একভাবে ট্রিট করা সম্ভব। একেকজনকে একেকভাবে ট্রিট করে ভালো ফল বের করে আনা সম্ভব। এগুলোই কিন্তু মাঠের বাইরের কাজ। এগুলো যত তাড়াতাড়ি আমরা দল হিসেবে নিশ্চিত করতে পারবো, আমরা সঠিক জায়গাতে আছি, ততই ভালো।

২০২৩ বিশ্বকাপ ভাবনায় আছে

তামিম ইকবাল: সত্যি কথা, আমি ওরকম কিছু চিন্তা করিনি। আমার কাছে মনে হয়, লম্বা সময় ভালো ব্যাপার যে বোর্ড দিয়েছে। আমি আমার সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করে দেখব। সম্ভব সবকিছুই করবো যেন বাংলাদেশের ক্রিকেট সঠিক পথে এগিয়ে যায়। দল ভালো করলে, আমি ভালো করলে সময়ের সঙ্গে ২০২৩ বিশ্বকাপ ভাবা শুরু করব। এই মুহূর্তে আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, কিছু ব্যাপার ঠিকঠাক করা। পাকিস্তানে যদি যাই, আগে সেটির দিকে নজর দেওয়া।

আপনি অধিনায়ক। যদি আপনার ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা হয়

তামিম ইকবাল: সমালোচনা হবেই। এতদিন সমালোচনা হয়েছে আমার ব্যাটিং নিয়ে। এখন সমালোচনা হলে হবে দুটি দিক নিয়ে। আমি এই কথাটিই বারবার বলছি যে, ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে। সেটি আলাদা ব্যাপার। কিন্তু অধিনায়কত্বের বেলায় আমাকে সময় দিতে হবে। এমন নয় যে, আমি বছরের পর বছর করে আসছি। নতুন চ্যালেঞ্জ আমার জন্য। এখানে আমাকে সময় দেওয়া উচিত। দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সেরা উপায় হলো সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, পারফরম্যান্স দিয়ে। দল ভালো করছে, কিন্তু আমি করছি না, এমন হলে সেই অধিনায়কের এগিয়ে যাওয়া কঠিন। আমি চেষ্টা করব। চেষ্টাই কেবল করতে পারি। ফল তো অনেক সময় হাতে থাকে না।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা
সাক্ষাৎকার বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর