• বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৮ ১৪২৬

  • || ০৭ শা'বান ১৪৪১

ষাট গম্বুজ বার্তা
সর্বশেষ:
কুমিল্লায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ৩ ১ বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় ২৯ বাংলাদেশির প্রাণহানী দিনাজপুরে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহত
২০৮৯

ফিরে দেখা : নৌপথ উন্নয়নে সরকারের সফলতা

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারি ২০২০  

বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। রুপকল্প ২০২১ এবং একশ’ বছরের ডেল্টা প্লানকে সামনে রেখে দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। উন্নয়নের মহান রুপকার, গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তাধারা ও যুগোপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশ থেকে দূর হয়েছে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বেকারত্ব। শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাসহ দেশের প্রতিটি সেক্টরে হয়েছে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

নৌ পথ উন্নয়ন :

নদীমাতৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। নৌদুর্ঘটনা হ্রাস ও নৌনিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি নৌপথের নাব্যতা বৃদ্ধি, নৌবন্দরসমূহের উন্নয়ন এবং নদীপথকে নিরাপদ রাখতে সমন্বিত ড্রেজিং কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বিআইডবিøউটিএ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশে প্রথম ১৯৭২ সালে ২টি এবং ১৯৭৫ সালে ৫টি ড্রেজার ক্রয় করা হয়। শেখ হাসিনার সরকারের গত মেয়াদে (২০০৯-২০১৪) ১৪টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছে। র্তমান মেয়াদে (২০১৪-২০১৯) ২০টি ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এসব ড্রেজার দিয়ে আগামী ১১ বছরে ৬৫টি নৌপথে ৫০১৮ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করা যাবে। ক্সমোংলা-ঘাসিয়াখালি নৌ-পথ খনন করে চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশের ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথের মধ্যে ২০ হাজার ৪০০ কিলোমিটার নৌপথ হারিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত মেয়াদে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি নৌপথ খনন কাজ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১২৭০ কিলোমিটার নৌপথ উদ্ধার করা হয়েছে ও প্রায় তিন হাজার একর জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৫০ মেট্রিক টন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন ‘নির্ভিক’ ও ‘প্রত্যয়’ নামে দু’টি উদ্ধারকারী জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঢাকার চারদিকে নদী তীরের ভূমি দখলমুক্ত রাখতে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ব্যাংক প্রটেকশনসহ ২০ কিলোমিটার ‘ওয়াকওয়ে’ নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। ঢাকা, বরিশাল ও পটুয়াখালী নদী বন্দর আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ভোলা নদীবন্দর ও টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

বরগুনা, ভৈরব ও যশোরের নওয়াপাড়া নদী বন্দরের উন্নয়ন এবং সীতাকুন্ডু, কাঁচপুর ও টঙ্গীতে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। ২০১২ সালে অভ্যন্তরীণ নৌযানে দক্ষ চালক সৃষ্টির জন্য দু’টি ডেক ইঞ্জিনিয়ারিং পার্সোনেল ট্রেনিং সেন্টার (ডিইপিটিসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৫৫ বছর পর ২০১৩ সালে বিআইডব্লিউটিএ’র জন্য ৩টা লংবুম এক্সাভেটর ক্রয় করা হয়েছে। এটি দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বর্জ্য উত্তোলন করা সম্ভব হবে। আরও ৬টি লংবুম এক্সাভেটর ক্রয় করা হবে। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকৃতির নৌ-যানের সংখ্যা নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ‘নৌ-শুমারি’ করা হয়েছে।

পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ী নৌরুটে রাতে নৌযান চলচলের জন্য ‘নাইট নেভিগেশন’ চালু করা হয়েছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে প্রথমবারের মত শ্যামপুরে ‘ইকোপার্ক’ নির্মাণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ‘ইকোপার্ক’ কাঁচপুরে করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা, বালু, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ নদীর দূষণমুক্তির জন্য দূষণের উৎসমুখ বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছে; কাজ চলমান রয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশ হতে পরীক্ষামূলকভাবে ৮.৫০ লাখ ঘনমিটার বর্জ্য উত্তোলন করা হয়েছে। মাদারীপুর-চরমুগরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ এলাকার মৃতপ্রায় মধুমতি, আপার কুমার, লোয়ার কুমার ও কুমার নদীর প্রায় ১১০ কিলোমিটার এবং ঢাকা শহরে চারদিকে ৭০ কিলোমিটার বৃত্তাকার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়নসহ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬২৮ কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা উন্নয়ন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌপথ উন্নয়ন ও নাব্য রক্ষায় বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ৩২ শো কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ। আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু। স›দ্বীপস্থ গুপ্তছড়ায় আরসিসি জেটি পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। সারাদেশে নৌপথে প্রায় ১০০টি ছোট পন্টুন নির্মাণ করা হয়েছে । বরিশালে ‘বিআইডবিøউটিএ পাইলট বিশ্রামাগার’ নির্মাণ করা হয়েছে। শিমুলিয়া ও কাঠালবাড়ি ফেরী ঘাট স্থানান্তরের মাধ্যমে ফেরী চলাচল যোগ্য নৌ পথের দূরত্ব হ্রাস করা হয়েছে। কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন, মহেশখালী-বাশখালী, খুলনা-নোয়াপাড়া নৌপথ খনন করা হযেছে। দাউদকান্দি-হোমনা-কৃষঞপুর, ভৈরব-কটিয়াদি, মোংলা বন্দর হতে চাঁদপুর-মাওয়াগোয়ালন্দ হয়ে পাকশী, চাঁদপুর-ইচুলী-হাজীগঞ্জ, শ্রীপুর-ভোলা-গঙ্গাপুর, পঞ্চগড়দিনাজপুর-নওগাঁ-নাটোর-পাবনা নৌপথ খনন কাজ চলমান। বিআইডবিøউটিসি  বিআইডবিøউটিসির ফেরি ছিল ২০টি, বর্তমান সরকারের সময়ে ১৭টি ফেরি নির্মাণ করা হয়েছে। স্টিমার সার্ভিসে ২টি বৃহৎ জাহাজ যুক্ত করা হয়েছে। আরও ২টি বৃহৎ যাত্রীবাহী নৌযান নির্মাণাধীন রয়েছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ এবং শরীয়তপুর, চাঁদপুরের মতলব ও নারায়ণগঞ্জ এবং গজারিয়া ও মুন্সিগঞ্জ সদরের মধ্যে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বদনাতলী-চরশিবার নৌরুটে বদনাতলী ফেরিঘাট চালু করা হয়েছে। জামালপুর (বাহাদুরাবাদ) ও গাইবান্ধার (বালাশীঘাট) এবং আরিচাঘাট এবং পাবনার নরদাহের মধ্যে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। জামালপুর (বাহাদুরাবাদ) ও গাইবান্ধার (বালাশীঘাট) আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজ চলমান।  ৫৫ বছর পর ফেরিতে ওভারলোডেড ট্রাকের মালামাল পরিমাপের জন্য এ পর্যন্ত ৬টি ‘ওজন সেতু’ স্থাপন করা হয়েছে;  ৫৫ বছর পর ৬টি ফেরিঘাটের জন্য ৬টি ‘রেকার’ ক্রয় করা হয়েছে। ঢাকার চারিদিকে নৌপথে ১২টি ওয়াটার বাস চালু করা হয়েছে এবং নৌরুট খনন করা হয়েছে। ফেরি ও নৌযানের অবস্থান পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ৪০টি নৌযানে ভেসেল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ২৮ ধাপ এগিয়েছে। লন্ডনভিত্তিক শিপিং বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরানো সংবাদমাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’ এর ২০১৭ সালের জরিপে (২০১৮ সালে প্রকাশিত) বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি কন্টেইনার পোর্টের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পাঁচ ধাপ এগিয়ে ৭০তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। ২০১৬ সালের জরিপে (২০১৭ সালে প্রকাশিত) বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭১তম। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৯৮তম। চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রমকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ১৩৪.৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে (Computerized Container Terminal Management System) প্রবর্তন করা হয়েছে। চালুর ফলে Paper-based documentation হ্রাস পেয়েছে এবং দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার নিমিত্তে কর্ণফুলি চ্যানেলে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে Vessel Traffic Management Information System (VTMIS)স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে কন্টেইনারের ডুয়েল টাইম গড়ে পূর্বের ২৫-২৬ দিন থেকে ১১-১২ দিনে নেমে এসেছে এবং জাহাজের গড় অবস্থানকাল পূর্বের ১১-১২ দিনের স্থলে ৩ দিনে নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে যাতায়াতকারী ট্রাক/ট্রেইলার স্ক্যানিং করার জন্য ২০১১ সালে ঞড়ি ঝঃধমব এধঃব স্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার স্ক্যানিং করার জন্য ২০১৫ সালে ‘মোবাইল স্ক্যানিং ভেহিকেল’ ক্রয় করা হয়েছে। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড ২৩,৪৬,৯০৯ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করা হয়েছে। যেখানে ২০০৮ সালে ১০ লাখ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করা হয়েছিল। বিগত ৯ বছর প্রকল্পের আওতায় এবং রাজস্ব খাতে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বিপুল সংখ্যক কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। বন্দরে তৈলবাহী জাহাজ বার্থিং ও খালাস কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ডলফিন জেটি-৪ নির্মাণ করা হয়েছে। অচল হয়ে পড়ে থাকা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এর নিজস্ব ওয়ার্কশপ ও ১২০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন শ্লিপওয়ে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যাপক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে চালু করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন-নির্গমনকারী জাহাজসমূহকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন (৪৫০০ বিএইচপি) একটি ‘টাগবোট’ সংগ্রহ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে আগমণ-নির্গমণকারী জাহাজসমূহে পানি সরবরাহের নিমিত্ত প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০০ টন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ‘ওয়াটার সাপ্লাই ভেসেল’ সংগ্রহ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে দু’টি বিশেষায়িত জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে পরিবেশ দূষণ হ্রাস পেয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ক্রেন পরিচালনার জন্য দক্ষ চালক প্রশিক্ষনের জন্য ২০১৫ সালে ‘সিমুলেটর’ ক্রয় করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য একটি মাল্টিপারপাস ড্রেজার ক্রয় করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘সাউথ কন্টেইনার ইয়ার্ড’ চালু করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে খাদ্যশস্য আনলোড ও ব্যাগিং করার জন্য ‘পিনিউমেটিক কনভেয়ার বেল্ট এন্ড ব্যাগিং প্লান্ট’ অটোমেশিন ক্রয় করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার লোডিং-আনলোডিং দ্রত ও সহজতর করার লক্ষ্যে দেশের প্রথম ‘রেল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন’  চট্টগ্রাম বন্দরে সংযোজন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে ৯০০ গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রেখে দেশের প্রথম ‘কারশেড’ চালু করা হয়েছে। দু’টি ‘কার ক্যারিয়ার’ ক্রয় করা হয়েছে। নিউমুরিং টার্মিনালের ৪টি জেটিতে কন্টেইনার ওঠানো নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। বন্দরকে আরও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্ণফুলি কন্টেইনার টার্মিনাল, লালদিয়ায় মাল্টিপারপাস টার্মিনাল এবং পতেঙ্গায় বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন। চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের মজুরি, ভাতা, চিকিৎসা সেবা, বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শ্রমিকদের সমস্যাসমূহ নিয়মিত সমাধান করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে ‘শ্রম শাখা’ চালু করা হয়েছে। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ৬২ বছর পর মোংলা বন্দরের নাব্যতা সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত ড্রেজিং-এর লক্ষ্যে ৪৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে দু’টি  কাটার সাকশান ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়েছে। পশুর নদীর নাব্যতা সৃষ্টির লক্ষ্যে হারবার এলাকায় ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। মংলা বন্দরে মালামাল দ্রæত ও দক্ষতার সঙ্গে হ্যান্ডলিং এর জন্য ১৭ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২টি স্ট্রাডেল ক্যারিয়ার, ৬টি ফর্কলিফট ট্রাক, ২টি টার্মিনাল ট্রাক্টর ও ২টি কন্টেইনার ট্রেইলার সংগ্রহ করা হয়েছে। বন্দরে দিবারাত্রি নির্বিঘেœ জাহাজ আগমন ও নির্গমনের জন্য ২১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬২টি বিভিন্ন ধরনের লাইটেড বয়া, ২টি রোটেটিং বীকন এবং ৬টি জিআরপি লাইট টাওয়ার ও আনুসঙ্গিক যন্ত্রপাতি পশুর চ্যানেলে স্থাপন করা হয়েছে। বন্দরে আগত জাহাজ হ্যান্ডলিং এর লক্ষ্যে মংলা হতে হিরণ পয়েন্ট পর্যন্ত পাইলট আনা নেওয়ার নিমিত্তে ২১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১টি পাইলট বোট ও ১টি পাইলট ডেসপাচ বোট সংগ্রহ করা হয়েছে।

বন্দরে জাহাজ নিরাপদে আগমন-নির্গমনের সুবিধার্থে জ্যাফট পয়েন্টে লাইট টাওয়ার পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। মংলা বন্দরে প্রথম গাড়ির জাহাজ খালাস করা হয়েছে বর্তমান সরকারের সময়। সরকারের কার্যকর নীতি গ্রহণের ফলে মংলা বন্দর ক্রমান্বয়ে লাভজনক হয়ে উঠেছে। ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত সরকারের সময় মংলা বন্দর লোকসান করেছিল ১১.৫ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মংলা বন্দর লাভ করেছে ৯৫ কোটি টাকা। পায়রা সমুদ্র বন্দর বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারে গত মেয়াদে (২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর) পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দর স্থাপন করা হয়েছে। পায়রা বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ১১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়সম্বলিত প্রকল্প চলমান। বহিঃনোঙ্গরে বাণিজ্যিক জাহাজ আনায়ন করে বাল্ক পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। বন্দরে ‘ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ চালু করা হয়েছে। পায়রা বন্দরে একটি কন্টেইনার টার্মিনাল, একটি বাল্ক টার্মিনাল, একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল, একটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, বিদ্যুৎ প্লান্ট, মডার্ন সিটি, বিমান বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ ১৯টি কম্পোনেন্টের কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) বর্তমানে দু’টি জাহাজের বহর নিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ বাণিজ্যে নিয়োজিত থেকে সরকারের খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সরকার ছয়টি জাহাজ এবং দু’টি মাদার ট্যাঙ্কার সংযুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। শীঘ্রই চীন থেকে ছয়টি জাহাজ দেশে এসে পৌঁছবে। মাদার ট্যাঙ্কারসহ আরও ২৯টি জাহাজ ক্রয়ের জন্য চীনের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক  স্বাক্ষরিত হয়েছে; ঢাকায় বিএসসি’র নিজস্ব জায়গায় বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শেষে উদ্বোধন করা হয়েছে। বিএসসি’র মেরিন ওয়ার্কশপ আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা
উন্নয়ন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর