• বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ষাট গম্বুজ বার্তা
১১৭

ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের তহবিল সঙ্কটে বাংলাদেশের উদ্বেগ

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২০  

সংঘাত থেকে মানুষকে রক্ষা এবং মহামারির মতো অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে শান্তিরক্ষীদের অমূল্য অবদানের স্বীকৃতি জানিয়ে তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে চলমান ৭৫তম সাধারণ পরিষদের চতুর্থ কমিটির সাধারণ বিতর্কে দেওযা বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বিদ্যমান ঝুঁকি এবং মহামারির মতো অপ্রত্যাশিত জরুরি পরিস্থিতিসহ শান্তিরক্ষীরা প্রতিনিয়ত যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে তাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। মাঠ পর্যায়ে শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষার জন্য জাতিসংঘ গৃহীত ‘অ্যাডাপ্ট অ্যান্ড অ্যাডজাস্ট’ শীর্ষক পদক্ষেপটির প্রশংসা করেন তিনি।

টেকসই শান্তি নিশ্চিত এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে সাবলীল গতিতে শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে উন্নীত করতে মাঠ পর্যায়সহ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের উচ্চতর পদসমূহে নারী শান্তিরক্ষীদের পদায়ন আরও বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনি জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘন, এ দায় থেকে পার পেয়ে যাওয়া এবং নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনসহ আন্তর্জাতিক আইনের অব্যাহত লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে দ্বি-রাষ্ট্র কাঠামোর আওতায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার রক্ষার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

বহুবছর ধরে চলমান ‘নিকট পূর্ব এশিয়ায় ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও সেবা সংস্থা (উনুরুয়া)’ এর তহবিল সঙ্কটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এ সমস্যা সমাধানে আরও অধিক উদারতা নিয়ে সম্ভাব্য তহবিলের জোগান এবং কারিগরি সহায়তা দিয়ে উনুরুয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সদস্য দেশসমূহের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও জাতিসংঘের বিশেষ রাজনৈতিক মিশনসমূহ তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তবে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা সমাধান করা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমি মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের বৃহত্তর ও শক্তিশালী প্রচেষ্টা গ্রহণের প্রতি জোর দেন তিনি।

‘মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বিষয়ক কমিটি (কোপিউয়াস)’ এর আওতায় গৃহীত ‘স্পেস-২০৩০’ এজেন্ডাটির প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এর কথা উল্লেখ করে তিনি মহাকাশ-প্রযুক্তি ও এতদসংশ্লিষ্ট প্রয়োগিক বিষয়সমূহে সক্ষমতা বিনির্মাণে বাংলাদেশের বিশেষ প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

উপনিবেশ ও বিদেশি দখলদারিত্বের অধীনে থাকা মানুষদের পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। উপনিবেশবাদ বিলোপ, ফিলিস্তিনি প্রশ্ন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা, বিশেষ রাজনৈতিক মিশন ও মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়াবলী নিয়ে সাধারণ পরিষদের চতুর্থ কমিটি কাজ করে থাকে। জাতিসংঘের সকল সদস্যরাষ্ট্র, পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সংগঠন চতুর্থ কমিটির এই সভায় অংশ নেয়।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর