• বৃহস্পতিবার   ০৯ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৫ ১৪২৭

  • || ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

ষাট গম্বুজ বার্তা
১২৬

মহানায়কের মহাজীবন

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২০  

১৭ মার্চ, ১৯২০
গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন।

১৯২৭
সাত বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্রজীবনের সূচনা।

১৯২৯
বঙ্গবন্ধুকে গোপালগঞ্জের সীতানাথ একাডেমির (বা পাবলিক স্কুলে) তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

১৯৩৪
মাদারীপুর ইসলামিরা হাইস্কুলে পড়ার সময় বঙ্গবন্ধু বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হন।

১৯৩৭
অসুস্থতার ফলে বন্ধ লেখাপড়া আবার শুরু হয়।

১৬ জানুয়ারি, ১৯৩৮
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল পরিদর্শনে এলে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয় হয়।

১৯৩৯
সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভার দায়ে বঙ্গবন্ধু প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন।

১৯৪২
এন্ট্রান্স (প্রবেশিকা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন।

১৯৪৪
কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন। ওই বছরই ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক নিযুক্ত হন।

১৯৪৬
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত। এ সময় তিনি হোসেন
শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহকারী নিযুক্ত হন। প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৪৭
ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করেন বঙ্গবন্ধু।

৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
ঢাকায় গণতান্ত্রিক যুবকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৪৮
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮
খাজা নাজিমুদ্দীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন।

২ মার্চ, ১৯৪৮
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির প্রস্তাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

১১ মার্চ, ১৯৪৮
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট আহ্বানকালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৫ মার্চ, ১৯৪৮
বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্ত হন।

১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮
ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য বঙ্গবন্ধু আবার গ্রেপ্তার হন।

২১ জানুয়ারি, ১৯৪৯
বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান।

৩ মার্চ, ১৯৪৯
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা দাবি-দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু তার প্রতি সমর্থন জানান।

২৯ মার্চ, ১৯৪৯
আন্দোলনে যোগদানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে জরিমানা করে। তিনি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন।

২০ এপ্রিল, ১৯৪৮
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সৃষ্ট আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়

২৩ জুন, ১৯৪৯
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। জেলে থাকাকালীন যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২৭ জুলাই, ১৯৪৯
বঙ্গবন্ধু জেল থেকে মুক্তি পান।

১৯৪৯
পূর্ব বাংলায় দুর্ভিক্ষ শুরু হলে খাদ্যের দাবিতে তিনি আন্দোলন শুরু করেন।

১ জানুয়ারি, ১৯৫০
এই আন্দোলনের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৪ ফেরুয়ারি, ১৯৫২
রাষ্ট্রভাষার দাবিতে কারাগারে অনশন শুরু করেন।

২১ ফেরুয়ারি, ১৯৫২
রাষ্ট্রভাষার দাবিতে প্রতিবাদ মিছিলে গুলি। শহীদ হন সালাম, রফিক, বরকতসহ অনেকে। জেল থেকে বঙ্গবন্ধু এই ঘটনার
নিন্দা জানান। এবং তিন দিন অনশন অব্যাহত রাখেন।

২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
অসুস্থ বঙ্গবন্ধুকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়া হয়।

১৬ নভেম্বর, ১৯৫৩
প্রাদেশিক আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩
প্রথম সাধারণ নির্বাচনে তিনি সব বিরোধী দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন।

১০ মার্চ, ১৯৫৪
নির্বাচনে ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টিতে লাভ করে। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে বিজয়ী হন।

২ এপ্রিল, ১৯৫৪
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।

১৪ মে, ১৯৫৪
বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় কনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

৩০ মে, ১৯৫৪
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করেন। বঙ্গবন্ধু এ দিনই করাচি থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং গ্রেপ্তার হন।

২৩ নভেম্বর, ১৯৫৪
বঙ্গবন্ধু জামিনে মুক্তি পেলে জেলগেটেই তাকে নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিসেম্বর, ১৯৫৪
বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান।

৫ জুন, ১৯৫৫
বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

১৭ জুন, ১৯৫৫
ঢাকার পল্টনের জনসভা থেকে বঙ্গবন্ধু প্রথম পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করেন।

২১ অক্টোবর, ১৯৫৫
আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে 'মুসলিম' শব্দ প্রত্যাহার করে নতুন নামকরণ করা হয় 'আওয়ামী লীগ'। বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

৭ অক্টোবর, ১৯৫৮
ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীর ওপর আক্রমণ এবং তার মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি
করেন।

১২ অক্টোম্বর, ১৯৫৮
বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন। এ সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।

৫ অক্টোবর, ১৯৫৯
বঙ্গবন্ধু মুক্তি পান। কিন্তু তার গতিবিধির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ সময় তিনি বারবার গ্রেপ্তার হন এবং ছাড়া পান।

২ জুন, ১৯৬২
চার বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটলে ১৮ জুন শেখ মুজিব মুক্তি লাভ করেন।

২৫ জানুয়ারি, ১৯৬৪
বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়।

১১ মার্চ, ১৯৬৪
বঙ্গবন্ধুর নেতৃতে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবিরোধী 'দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি' গঠিত হয়।

২৬ জুলাই, ১৯৬৪
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সম্মিলিত বিরোধী দল কঅপ (কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি গঠিত হয়)।

১৯৬৫
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কঅপের পক্ষ থেকে ফাতিমা জিন্নাহকে প্রার্থী দেওয়া হয়। নির্বাচনের ১৪ দিন আগে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন।

১৮ মার্চ, ১৯৬৬
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ৬ দফা গৃহীত হয়। এরপর তিনি ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন। এ সময় তিন মাসে আটবার গ্রেপ্তার হন। শেববার তাকে গ্রেপ্তার করে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়।

৩ জানুয়ারি, ১৯৬৮
বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে।

১৭ জানুয়ারি, ১৯৬৮
বিচারের রায়ে বেকসুর খালাস পেলেও জেলগেট থেকে তাকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে শুরু হয় তার সেনা আইনে বিচার।

২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৯
নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতে লিখিত বিবৃতি দেন। বিবৃতির পর বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দেশবাসী প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও তার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ছাত্রসমাজ ছয় দফার সমর্থনে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে।

৩০ জানুয়ারি, ১৯৬৯
পরিস্থিতি ঠেকাতে আলোচনার জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব দেয় পাকিস্তানি সামরিক সরকার। বঙ্গবন্ধু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে নির্মমভাবে হত্যা করা হলে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে।

২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
গণআন্দোলনের মুখে সরকার 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য' শিরোনামে মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহার করে।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
ডাকসু এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা দেয়। ওই সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১০ মার্চ, ১৯৬৯
রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আইয়ুব খান গোলটেবিল বৈঠকের অয়োজন করেন। ৬ দফার পক্ষে বঙ্গবন্ধু দৃঢ় অবস্থান নেন। বৈঠকটি ব্যর্থ হয়।

২৫ মার্চ, ১৯৬৯
বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ইয়াহিয়া সামরিক শাসন জারি করেন।

২৮ নভেম্বর, ১৯৬৯
এক ভাষণে ইয়াহিয়া খান ১৯৭০-এর ১ জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বছরের শেষভাগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথাও বলেন।

১ জানুয়ারি, ১৯৭০
১৯৫৮ সালের পর প্রথম রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু প্রথম দিন থেকেই ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু করেন।

৪ জুন, ১৯৭০
নির্বাচন সামনে রেখে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল শুরু হয়। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়।

১৫ আগস্ট, ১৯৭০
জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা- যথাক্রমে ৭ ও ১৭ ডিসেম্বর।

৮ অক্টোবর, ১৯৭০
১৯টি রাজনৈতিক দলের প্রতীক ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।

২৮ অক্টোবর, ১৯৭০
বঙ্গবন্ধু বেতার ও টেলিভিশনে নির্বাচনী ভাষণ দেন। জনগণের কাছে ৬ দফার পক্ষে ম্যান্ডেট চান।

১২ নভেম্বর, ১৯৭০
পূর্ব বাংলার ভয়াবহ ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ১০-১২ লাখ মানুষ মারা যান। বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত করে ত্রাণকাজে নামেন।

৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০
দুর্গত এলাকাগুলো বাদে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তান পিপলস পার্টি পায় ৮৮টি আসন।

১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০
প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব বাংলায় ২৯৮টি আসন লাভ করে।

৩ জানুয়ারি, ১৯৭১
আওয়ামী লীগের সব নির্বাচিত সদস্য ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের শপথ গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে বাঙালির মুক্তির সংকল্প ব্যক্ত করেন।

১০ জানুয়ারি, ১৯৭১
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিন দফা বৈঠক করেন। ৪ দিন পর ফিরে যাওয়ার সময় বলেন, 'শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।'

২৭ জানুয়ারি, ১৯৭১
জুলফিকার আলি ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেন। সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় ৩ মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন।

১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১
আওয়ামী লীগের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বঙ্গবন্ধুকে দলের নেতা নির্বাচন করা হয়।

১ মার্চ, ১৯৭১
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে হোটেল পূর্বাণীতে আওয়ামী লীগের বৈঠক। এদিন আকস্মিকভাবে ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। সারা বাংলা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহ্বান করেন।

২ মার্চ, ১৯৭১
ঢাকায় স্বতঃস্ম্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়। উত্তাল জনস্রোতে ঢাকা পরিণত হয় এক বিক্ষোভের শহরে। সরকার ঢাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা থেকে কারফিউ জারি করে।

৩ মার্চ, ১৯৭১
বিক্ষুব্ধ জনতা কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। সামরিক জান্তার গুলিতে মারা যান তিনজন, আহত হন কমপক্ষে ৬০ জন।

৭ মার্চ, ১৯৭১
তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের
স্বাধীনতার সংগ্রাম।' ভাষণে স্পষ্ট হয় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন।

১৬ মার্চ, ১৯৭১
আলোচনার জন্য ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশে আসেন। আলোচনার জন্য বঙ্গবন্ধু গাড়িতে কালো পতাকা উড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ভবনে যান।

১৭ মার্চ, ১৯৭১
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম জন্মদিন। ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা হয়।

২৩ মার্চ, ১৯৭১
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি ভবনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।

২৫ মার্চ, ১৯৭১
পৃথিবীর ইতিহাসে এক নৃশংসতার কাল রাত্রি ২৫ মার্চ। সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ইয়াহিয়া ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাত সাড়ে এগারোটায় শুরু হয় 'অপারেশন সার্চ লাইট' নামে জঘন্যতম গণহত্যা।

২৬ মার্চ, ১৯৭১, ১২.৩০ মিনিট
মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বার্তা ওয়্যারলেসযোগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরীকে প্রেরণ করেন। চট্টগ্রাম বেতার থেকে আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বাণী প্রচার করেন। ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান ওই ঘোষণা পুনর্পাঠ করেন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে করাচিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

২৭ মার্চ, ১৯৭১
৭ মার্চের ভাষণ এবং স্বাধীনতা ঘোষণার আলোকে বীর বাঙালি স্বতঃস্ম্ফূর্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ঘোষণা করেন বৈদ্যনাথতলার নাম মুজিবনগর এবং অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালিত হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।

২৫ মে, ১৯৭১
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু।

৩ আগস্ট, ১৯৭১
পাকিস্তান টেলিভিশন থেকে বলা হয়, ১১ আগস্ট সামরিক আদালতে বঙ্গবন্ধুর বিচার শুরু হবে। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রবাসী বাঙালিরা আন্তর্জাতিক আইনজীবী সান ম্যাকব্রাইভকে ইসলামাবাদে পাঠান। সরকার বিদেশি আইনজীবী নিয়োগে অস্বীকৃতি জানায়।

১০ আগস্ট, ১৯৭১
বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আইনজীবী একে ব্রোহীকে নিয়োগ দেয়। শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর প্রহসনের বিচার।

১১ নভেম্বর, ১৯৭১
বঙ্গবন্ধুকে ইয়াহিয়া খানের সামনে হাজির করা হয়। ইয়াহিয়া করমর্দনের জন্য হাত বাড়ালে বঙ্গবন্ধু বলেন, 'দুঃখিত, হাতে বাঙালির রক্ত লেগে আছে। ও হাত আমি স্পর্শ করব না।' এ সময় অনিবার্য বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মুক্তির সংগ্রাম।

২ ডিসেম্বর, ১৯৭১
লায়লপুর কারাগারে ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুকে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। বঙ্গবন্ধু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধ ও ত্রিশ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আসে স্বাধীনতা।

৩ জানুয়ারি, ১৯৭২
জুলফিকার আলি ভুট্টো ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া হবে।

৮ জানুয়ারি, ১৯৭২
বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান। পিআইএ-র বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধুকে লন্ডন পাঠানো হয়। ৮ জানুয়ারি ভোরে বঙ্গবন্ধু লন্ডন পৌঁছান। হোটেলের সামনে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন, আমার জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই।

১০ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্রিটেনের রাজকীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু নয়াদিল্লি আসেন। সেখান থেকে স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। আবেগে অশ্রুসিক্ত জাতির পিতা বলেন, 'আমার জীবনের সাধ পূর্ণ হয়েছে।' এদিন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেন। ওই রাতে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১২ জানুয়ারি, ১৯৭২
দেশে রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন কাঠামোর প্রবর্তন করে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়। জাতির পিতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

১২ মার্চ, ১৯৭২
স্বাধীনতার ৫০ দিনের মধ্যে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয়।

২৬ মার্চ, ১৯৭২
শোষণহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দেশে প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়।

১০ এপ্রিল, ১৯৭২
শুরু হয় গণপরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

৪ নভেম্বর, ১৯৭২
বাংলাদেশ গণপরিষদের খসড়া শাসনতন্ত্র অনুমোদিত হয়।

১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয়।

৭ মার্চ, ১৯৭৩
বাংলাদেশে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৩০০টির মধ্যে ২৯২টি আসনে বিজয়ী হয়।

৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩
আওয়ামী লীগ, সিপিবি এবং ন্যাপের সমন্বয়ে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়।

২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাঙালি নেতা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেন।

২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫
দেশে বিরাজমান পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় সংসদে চতুর্থ সংশোধনী বিল পাস করেন। এই বিলের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু।

২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫
রাষ্ট্রপতি এক ডিক্রির মাধ্যমে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সম্মিলনে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' নামে একটি নতুন একক রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

১৫ আগস্ট, ১৯৭৫
স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ষড়যন্ত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শহীদ হন।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা
পাঠকের চিন্তা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর