• রোববার   ১৮ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৫ ১৪২৮

  • || ০৭ রমজান ১৪৪২

ষাট গম্বুজ বার্তা

সেনাবাহিনীর চার ইউনিটকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২১  

সেনাবাহিনীর চারটি ইউনিটকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার যশোর সেনানিবাসে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়,  সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এবং ১০ ও ১১ সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন এই কালার প্যারেডে অংশগ্রহণ করে এবং প্রধান অতিথির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিমেন্টাল পতাকা গ্রহণ করে।

যশোর সেনানিবাসের এসটিসিএন্ডএস প্যারেড গ্রাউন্ডে সেনাবাহিনী প্রধান উপস্থিত হলে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ার তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে প্যারেড কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহাবউদ্দিনের নেতৃত্বে কালার প্যারেডে অংশগ্রহণকারী ব্যাটালিয়নগুলোর সম্মিলিত চৌকষ দল কুচকাওয়াজ প্রদর্শন এবং সেনাবাহিনী প্রধানকে জেনারেল সালাম প্রদান করে।

উল্লেখ্য, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলস প্রচেষ্টা, দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং বিবিধ প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল কর্মকাণ্ডে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি ইউনিট বা রেজিমেন্টকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করা হয়।

সেনাবাহিনী প্রধান তার বক্তব্যের শুরুতেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেই সঙ্গে তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের; যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বহু-কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি আধুনিক, যুগোপযোগী এবং চৌকষ বাহিনী হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী উদ্যোগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান রেজিমেন্টাল কালারপ্রাপ্ত ইউনিটগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, রেজিমেন্টাল কালার প্রাপ্তি যেকোনো ইউনিটের জন্য একটি বিরল সম্মান ও পবিত্র আমানত। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে এই বিরল প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে আরও অধিক গৌরবের ও আনন্দময়।

এ সময় তিনি কর্মদক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম ও কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাপ্ত পতাকার মর্যাদা রক্ষা এবং দেশ মাতৃকার যেকোনো প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে ইউনিটগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা প্রদান করেন।

কালার প্যারেডে উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলাসহ দেশের আর্থসামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। একই ধারায় ভবিষ্যতেও মাতৃভূমির অখণ্ডতা রক্ষা তথা জাতীয় প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি সেনাবাহিনীর সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশমাতৃকার যেকোনো প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে নির্দেশনা প্রদান করেন। পরিশেষে সেনাবাহিনী প্রধান রেজিমেন্টাল কালার প্রদান উপলক্ষে একটি সুশৃঙ্খল, মনোজ্ঞ ও বর্ণিল কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তারা ও বিভিন্ন পদবীর সেনা সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা