• বুধবার   ২৭ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

ষাট গম্বুজ বার্তা
১০

হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ২২ মে ২০২০  

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। শুক্রবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে হালদা নদীর বিভিন্ন স্পটে ডিম ছাড়তে শুরু করেছে কার্প জাতীয় মা মাছ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা বিশেষজ্ঞ ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, ‘হালদা নদীর কাগতিয়ার মুখ থেকে গড়দুয়ারা নয়াহাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে ডিম পাচ্ছেন বলে ডিম সংগ্রহকারীরা জানাচ্ছেন।’

এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে জেলেরা প্রতি জালে ১০০-১৫০ গ্রাম পর্যন্ত ডিম পাচ্ছিলেন। ওসব ডিমকে নমুনা ডিম বলে জানিয়েছিল হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, বুধবার (২০ মে) রাতে বৃষ্টিতে পুরোদমে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ ছিল। এরপরও এদিন মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়েনি। তবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়তে শুরু করেছে।

তারা জানান, এবার মা মাছ রক্ষায় হালদা নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করায় ডিম সংগ্রহে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা এলাকার বাসিন্দা জানে আলম বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ৭টার পর থেকে হালদা নদীতে ডিম পেতে শুরু করেছেন জেলেরা। এই মুহূর্তে কয়েকশ জেলে নদীর কাগতিয়ার মুখ থেকে গড়দুয়ারা নয়াহাট পর্যন্ত এলাকায় ডিম সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বুধবার ঘূর্ণিঝড়ের রাতে বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিতে হালদায় মা মাছের ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমরা রাত ৯টা থেকে ডিম সংগ্রহ করার জন্য হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করেছিলাম। কিন্তু এদিন মা মাছগুলো পুরোদমে ডিম ছাড়েনি। তবে বৃহস্পতিবার সামান্য কিছু নমুনা ডিম ছেড়েছিল। এখন অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় মা মাছ তার ডিম পুরোপুরিভাবে ছাড়ছে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে প্রবল পাহাড়ি ঢল ও শীতল আবহাওয়ায় কার্প জাতীয় মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। পাহাড়ি ঢল, বজ্রসহ বৃষ্টি, ঠান্ডা আবহাওয়া, পূর্ণিমা, অমাবস্যার তিথিতে মূলত মা মাছ ডিম ছাড়ে। এখন সে ধরনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

হালদা থেকে ১০ হাজার ২০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল গতবছর। এর আগে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে এক হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে দুই হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।

হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতবছর অনাবৃষ্টি, মা মাছের মৃত্যু, দূষণ, চলমান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজে ড্রেজার ও নৌযান চলাচল বৃদ্ধি এবং ‘কুম’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে এবার প্রকৃতি ‘সদয়’ থাকলে আরও বেশি ডিম ও রেণু মিলবে বলে ধারণা তাদের।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর