• সোমবার   ১৬ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৯

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩

ষাট গম্বুজ বার্তা

আগামী বাজেটে থোক বরাদ্দের প্রস্তাব নয়: অর্থ মন্ত্রণালয়

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ৫ মে ২০২২  

নতুন বাজেটে প্রস্তাবে কোনো থোক বরাদ্দ রাখা যাবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি যেসব ক্ষেত্রে ব্যয় অনুমোদন করেছে, সেখানে বরাদ্দ প্রাক্কলন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অননুমোদিত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা যাবে না।

সম্প্রতি অর্থ বিভাগ থেকে জারিকৃত বাজেট পরিপত্র-২-এ এসব কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আসন্ন অর্থবছরের বাজেট প্রাক্কলন এবং ২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২৫২৫ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ প্রণয়নের জন্য এই পরিপত্র জারি করেছে অর্থ বিভাগ।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো পদ্ধতির আওতাভুক্ত সব মন্ত্রণালয়/বিভাগকে আগামী অর্থবছরের বিস্তারিত বাজেট প্রাক্কলন আগামী ৮ মের মধ্যে আইবাস++ এ অন্তর্ভুক্তি সম্পন্ন করে এবং হার্ডকপি অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ (১ ও ২), পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। একই সঙ্গে আগামী ২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রক্ষেপণও জমা দিতে হবে ওই সময়ের মধ্যে।

এতে বলা হয়, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো পদ্ধতিতে বাজেট প্রণয়নের দ্বিতীয় পর্যায়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে ত্রিপক্ষীয় সভায় সম্মত রাজস্ব ও প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা এবং ব্যয়সীমার আলোকে বিস্তারিত বাজেট প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ   প্রয়োজনে সংশোধন ও পুননির্ধারণ করতে হবে।

নতুন অর্থবছরের বিস্তারিত বাজেট প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোকে চারটি নীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যাতে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোতে বর্ণিত কৌশলগত উদ্দেশ্য এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২০-২০২৫), প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-২০৪১) ও মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিজস্ব নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা এবং মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে সক্ষম হয়।

দ্বিতীয়ত: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যাতে সরকারের মৌলিক নীতিনির্ধারণী দলিলগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দারিদ্র্য নিরসনে সহায়ক বরাদ্দ বাড়াতে সক্ষম হয় এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রদেয় সেবার মান ও পরিমাণ বাড়ে।

তৃতীয়ত : জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয় বাড়ার বিষয় সামঞ্জস্য রাখা, যাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায়।

চতুর্থত: মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা এবং ব্যয়সীমা সংশোধন/পুননির্ধারণের বিষয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়ক হয়, তেমন সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। তবে সাধারণভাবে বাজেটে কোনো প্রকার থোক বরাদ্দ প্রস্তাব করা যাবে না।

সরকারি অনুদানে পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর বরাদ্দ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থার চলতি অর্থবছরের নিজস্ব আয় ও আয়ের উৎসসমূহ পর্যালোচনা করতে হবে। ত্রিপক্ষীয় সভায় সম্মত প্রাক্কলিত ও প্রক্ষেপিত আয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে দেখাতে হবে। নিজস্ব আয়ের অর্থ বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার জন্য ব্যয়সীমা/সরকারি অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণ করে তার ভিত্তিতেই বিস্তারিত অর্থনৈতিক কোড অনুযায়ী বাজেট প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ প্রণয়ন করতে হবে।

পরিপত্রে ব্যয় প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ প্রণয়নের বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের প্রাক্কলন এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন তা মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ব্যয়সীমার মধ্যে সংকুলানযোগ্য হয়।

উন্নয়ন ব্যয়ের প্রাক্কলন/প্রক্ষেপণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ কর্তৃক আগামী তিন বছরের জন্য বৈদেশিক সহায়তার যে প্রক্ষেপণ প্রণয়ন করা হয়েছে, সে অনুযায়ী প্রকল্প সাহায্য ও পুনর্ভরণযোগ্য প্রকল্প সাহায্যের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে অর্থ বিভাগের পরিপত্রে।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা