• শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৭ ১৪৩১

  • || ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ষাট গম্বুজ বার্তা

বাগেরহাটে কমে যাচ্ছে নারকেলের গাছ ও ফলন

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

বাগেরহাটের বিভিন্ন অঞ্চলে নারকেলের গাছ ও ফলন চরম ভাবে কমে যাওয়ায় আকাশছোয়া মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে সর্বত্র। ফলে সর্ব সাধারনের মধ্যে নারকেলের চাহিদা থাকলেও ক্রয় ক্ষমতার বাইরে তা ক্রয়-বিক্রয় হওয়ায় অনেকে তা খেতে পারছেনা। এ অবস্থায় নারকেল চাষে স্থানীয় চাষিদের আগ্রহ বৃদ্ধি করা না হলে এঅঞ্চল হতে নারকেল গাছ ও ফল বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সারাদেশের মধ্যে বাগেরহাট জেলা নারকেলের জন্য বিভিন্ন জেলায় এর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তাছাড়া বাগেরহাট সদর, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, মোড়লগঞ্জ, কচুয়া ও চিতলমারীসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে আগের দিনে ব্যাপক পরিমানে নারকেল গাছ ছিল। সেই নারকেল গাছে বিপুল পরিমানে নারকেল ফলন ধরায় এলাকার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে তা রপ্তানী করা হতো। সেই জন্য এই অঞ্চলকে নারকেলের অঞ্চল হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপরিচিতি অর্জন করে। কিন্তু কালের পরিবর্তনে বা নানা কারনে-অকারনে নারকেল গাছগুলি কেটে ফেলায় নারকেল গাছে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিবেশগত দিক দিয়ে নারকেল গাছে ফলনও চরম ভাবে কমে গেছে। যে কারণে সর্বসাধারনের নারকেলের প্রতি চাহিদা থাকলেও তা ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকে নারকেল খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় নারকেল বাগান মালিক বা চাষিরা জানান, আগের তুলনায় এখন গাছে তেমন একটা ফলন পাওয়া যাচ্ছেনা। তাছাড়া কারনে-অকারনে অনেক গাছ কেটে ফেলা, মরে যাওয়া বা আগের মত ফলন না ধরায় নারকেল গাছের প্রতি তেমন একটা আগ্রহ থাকছে না। আবার কোন কোন স্থানে বিপুল পরিমানে নারকেল গাছ থাকলেও ফলন তেমন একটা না ধরায় তা কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ হতে নারকেল চাষিদের উৎসাহ জোগাতে যদি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হত তাহলে এঅঞ্চলে আবারও নারকেলের জন্য ব্যাপক সুপরিচিতি লাভ করতো।

বাগেরহাট সদর উপজেলার চুলকাটি একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। রবিবার ও বৃহস্পতিবার এখানে সাপ্তাহিক হাট বসে। এই বাজারে খানপুর রাখালগাছি বেতাগা শুভদিয়া পিলজংগ, রুপসা রামপাল ও মোংলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এখানে নারকেল ক্রয়-বিক্রয় করতে আসেন। এখানে সাপ্তাহিক হাটের দিনে প্রায় ১০/১২হাজার নারকেল ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। সেই নারকেল চলে যায়, রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহী চট্টগ্রাম সিলেট বা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বেশ কয়েকজন নারকেল ব্যবসায়ী এই নারকেলের ব্যবসা করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

স্থানীয় নারকেল ব্যবসায়ী, তুষার বসু, মোঃ টুটুল, মোঃ হারুন, মোঃ ওলিউর রহমান, শংকর কর ও বিশ্বনাথ কর সহ একাধিক ব্যবসায়ীরা বাগেরহাট টুয়েন্টিফোরকে জানান, তারা দিনাজপুর নাটোর সহ বিভিন্ন জেলায় এখান থেকে নারকেল ক্রয় করে রপ্তানী করে থাকেন। আগে যে নারকেল ৫০/৬০টাকা জোড়া বিক্রয় করা হতো সেখানে এখন বিক্রয় করা হচ্ছে ১৬০/১৬৫ টাকা। নারকেল গাছ বিভিন্ন কারনে মরে যাওয়া বা ফলন না ধরায় এঅবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাগেরহাটের নারকেলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয় চাষিদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাবলম্বি করে গড়ে তুলতে পারলে আবারও এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ফিরে আসতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা