• শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৭ ১৪২৯

  • || ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

ষাট গম্বুজ বার্তা

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল আটক

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২২  

২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামিকে গ্রেফতার করেছের র‌্যাব। তার নাম শেখ মো. এনামুল হক ওরফে শেখ মো. এনামুল করিম (৫৩)।

শনিবার (১৮ জুন) রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এনামুল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক পরিচয়ে আত্মগোপন করে ছিল। মাঝে কয়েক বছর সে গাজীপুরের একটি মসজিদে ভুয়া পরিচয়ে ইমামতিও করেছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ এর একটি অভিযানিক দল শেখ এনামুল করিমকে গ্রেফতার করেছের। তার বাবার নাম মৃত শেখ আব্দুল মজিদ। গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়।

র‌্যাব জানিয়েছে, ২০০০ সালে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় জনসভার অদূরে জঙ্গি শেখ মো. এনামুল করিম ও অন্য জঙ্গি সদস্যরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় হত্যাচেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা রুজু হয়। তদন্ত শেষে উক্ত মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ২৩ মার্চ গ্রেফতারকৃত শেখ মো. এনামুল হক ওরফে শেখ মো. এনামুল করিমসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।  

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জানায়, ব্যবসায়িক সূত্র ধরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হুজি’র আমির মুফতি আব্দুল হান্নান-এর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সে ২০০০ সালে গোপালগঞ্জ শহরে বিসিক শিল্প নগরীতে মুফতি হান্নার-এর ছোট ভাই আনিস এর সঙ্গে যৌথভাবে প্লট বরাদ্দ নিয়ে ‘সোনার বাংলা কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে টুথপেস্ট, টুথপাউডার, মোমবাতি ও সাবান তৈরির একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে।

গ্রেফতারকৃত বিভিন্ন সময়ে মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য জঙ্গি নেতাদের সাথে গোপন বৈঠক এবং সমাবেশে অংশগ্রহণ করত। গ্রেফতারকৃত এনামুল মুফতি আব্দুল হান্নান এর পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার জন্য পরস্পর যোগসাজশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে লক্ষ্যে তারা ওই কারখানায় সাবান তৈরির কেমিক্যাল সংগ্রহের আড়ালে বিভিন্ন প্রকার বিস্ফোরক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি কারখানায় জমা করে লোহার ড্রামের ভিতর দুটি শক্তিশালী বোমা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় জনসভার অদূরে বোমা পুঁতে রাখে।

র‌্যাব জানায়, আলোচিত এই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে গ্রেফতারকৃত এনামুল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে সে পরিচয় গোপন করে নিজেকে ‘কারি’ পরিচয় দিয়ে গাজীপুরের একটি মসজিদে আট বছরেরও বেশি সময় ইমামতি করে। গাজীপুরে অবস্থানকালীন সময়ে সে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে। গাজীপুরে অবস্থানকালীন একটি হোমিওপ্যাথি কলেজে দুই বছর প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বলে জানা যায়।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা