• সোমবার   ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৪ ১৪২৯

  • || ১৫ রজব ১৪৪৪

ষাট গম্বুজ বার্তা

দুদকে চার শতাধিক অনুসন্ধানের সমাপ্তি : হাইকোর্টে নথি তলব

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩  

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ অবসরে যাওয়ার আগের ৫ মাসে অনুসন্ধানধীন ৪ হাজার ৪৮১টি অভিযোগের বিপরীতে ১৫৪টি মামলা দায়ের এবং ‘তথ্য–প্রমাণের অভাবে’ ৪০৮টি অভিযোগের পরিসমাপ্তির সিদ্ধান্ত হয়। ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে, বিদায়ের আগে দুর্নীতির বহু রাঘববোয়ালকে ছেড়ে দেন দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তাদের দায়মুক্তি আড়াল করতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন কিছু নিরীহ ও দুর্বল ব্যক্তিকে। সব মিলিয়ে শেষ পাঁচ মাসে তিনি দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (দায়মুক্তি) দেন। ওই পাঁচ মাসে দুদকের অনুসন্ধানপ্রক্রিয়ায় অভিযোগের পরিসমাপ্তি, চূড়ান্ত প্রতিবেদন, মামলা দায়ের ও তদন্ত বিষয়ে দুদকের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য রয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রবিবার (২২ জানুয়ারি) প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন দুদকের আইনজীবী।

প্রতিবেদনের একটি অংশে ১৬৫টি ক্ষেত্রে অভিযোগপত্র দাখিলের এবং ৫৭টি ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে। অপর অংশে ১৫৭টি ক্ষেত্রে অভিযোগপত্র দাখিলের এবং ৬৫টির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংখ্যা নিয়ে বৈসাদৃশ্যের বিষয়ে দুদককে সুনির্দিষ্টভাবে উপপরিচালক (আইন) ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হলফনামা আকারে ব্যাখ্যা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অনুসন্ধানপ্রক্রিয়ায় নিষ্পন্ন হওয়া অভিযোগের নথিও তলব করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়ের করা মামলার হালনাগাদ তথ্যও জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘দুদকে অনুসন্ধান-বাণিজ্য’ শিরোনামে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ একটি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আনার পর ওই বছরের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট অভিযোগ বিষয়ে ওই পাঁচ মাসে দুদকের অনুসন্ধান এবং তদন্তপ্রক্রিয়ায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠানের নাম–ঠিকানাসহ তালিকা হলফনামা আকারে দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দেন। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের সত্যতা এবং এ–সংক্রান্ত কাগজ–তথ্যাদিও আদালতে দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় তালিকাসংবলিত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে ছিলেন।

২০১৬ সালের ১০ মার্চ ইকবাল মাহমুদ দুদককের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন, দায়িত্ব পালন শেষে ২০২১ সালের ১০ মার্চ তিনি অবসরে যান।

আদেশের পর আইনজীবী খুরশীদ আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, আগের অভিযোগসহ ওই ৫ মাসে ৪ হাজার ৪৮১টি অভিযোগ অনুসন্ধানধীন ছিল। অনুসন্ধানপ্রক্রিয়ায় ৪০৮টি এবং অন্যভাবে দুটি অভিযোগের পরিসমাপ্তি হয়। তখন ১ হাজার ৫৭৮টি মামলা তদন্তাধীন ছিল। এর মধ্যে ৫৭টিতে এফআরটি (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) এবং ১৬৫টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের সিদ্ধান্ত হয়। অপর ছয়টি মামলা কমিশন বা আদালতের সিদ্ধান্তে নিষ্পত্তি হয়। সব মিলিয়ে ৪৭৩টি অভিযোগের অনুসন্ধান পরিসমাপ্ত হয়েছে—এগুলোর নথি তলব করেছেন হাইকোর্ট।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ১৫৪টি এজাহার দায়ের করা মামলাগুলোর হালনাগাদ তথ্যও হলফনামা আকারে জানতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা