• সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩১ ১৪৩১

  • || ০৭ মুহররম ১৪৪৬

ষাট গম্বুজ বার্তা

আমার অপূর্ণতা নেই

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২০  

বরেণ্য অভিনেত্রী শাবানা। যার নামের পাশে কোনো বিশেষণের প্রয়োজন হয় না। শাবানা মানেই যেন বর্ণিল ইতিহাসের পাণ্ডুলিপি। প্রায় ২০ বছর হলো চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নিয়ে স্বামী-সন্তানসহ থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। 

প্রায় দুই দশক হলো চলচ্চিত্রকে বিদায় জানিয়েছেন; যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন। প্রবাসে কীভাবে সময় কাটে?

আমি এখন পুরোপুরি পারিবারিক মানুষ। পরিবার নিয়েই সময় কাটে। নাতি-নাতনিদের নিয়ে খেলাধুলা আর আড্ডা দিয়েই সময় পার করি। ওরাই এখন আমার একমাত্র খেলার সঙ্গী। মাঝেমধ্যে দেশে আসছি। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিনেমার পুরোনো মানুষজনও আসছে। সময়টা বেশ কেটে যায়।

প্রবাস জীবনে অভিনেত্রী শাবানার কোন বিষয়টা বেশি মিস করেন?

প্রতিটি জীবনেরই কম-বেশি অতীত থাকে। সে অতীতটা ভালো-মন্দ মিলেই। সাধারণত মানুষ তার জীবনে অতীতের সুন্দর সময়কেই মিস করে বেশি। আমিও করি। একদিন কত সুন্দর সময় গেছে আমাদের! শত ব্যস্ততা মাথায় নিয়ে বাসায় ফিরেছি। মাসের ৩০ দিন শুটিং করেছি। শুটিং শেষে পরের দিনের শুটিংয়ের আবার প্রস্তুতি। সেসব দিন খুবই মিস করি। সেই সঙ্গে দেশের মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা। এখন যখন দেশে আসি; রাস্তায় আমাকে দেখে কোনো মানুষের চোখে-মুখে যে আনন্দ ও তৃপ্তির ছাপ ফুটে ওঠে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

সিনেমার 'গোল্ডেন সময়'-এ চলচ্চিত্রে রাজত্ব করেছেন। সে সময়ে আরও অনেক নায়িকাই দর্শকপ্রিয় ছিলেন। তাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল?

এটা সত্যি, বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি দিন ছিল। এফডিসির কোনো ফ্লোর ফাঁকা থাকত না। তখন কবরী, ববিতা আরও অনেকেই জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন। সবার সঙ্গেই আমার সুসম্পর্ক ছিল। তবে আমাদের মধ্যে দেখা কম হতো। কারণ সে  সময় সবাই কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত যে, পাশাপাশি ফ্লোরে শুটিং হলেও দেখা করার ফুরসত মিলত কম। সবার মাঝে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা ছিল।

আপনার সময়ের সেরা পাঁচজন নায়কের কথা জানতে চাইলে তালিকায় কাদের নাম রাখবেন?

আমি যাদের সঙ্গে কাজ করেছি তারা সবাই ছিলেন বেস্ট। আলমগীর ভাই ও প্রয়াত রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে আমার বেশি কাজ হয়েছে। তা ছাড়া ফারুক ভাই, সোহেল রানা ভাই এবং প্রয়াত বুলবুল ভাই ও জাফর ইকবালের সঙ্গেও অভিনয় করেছি। এদের মধ্যে কাকে এগিয়ে রাখব, বলুন?

এখনকার ঢাকার ছবির খবর কেমন রাখা হয়?

অনেক দিন হলো ছবি দেখা হয় না। খোঁজখবরও খুব একটা রাখা হয় না। তবে দেশে এলে সিনেমার পুরোনো মানুষজনের সঙ্গে দেখা হয় কথা হয়। এখন শাকিব ভালো কাজ করছে, শুনছি। ও একাই দেশের ছবির হাল ধরে আছে। শাকিব আমার বাসায় এসেছিল। কিন্তু সে একা আর কতটা কী করবে? আগে রিয়াজ, ফেরদৌসও ভালো কাজ করত। এখন তারাও কম কাজ করছে। এখন সিনেমায় প্রযোজকের লগ্নি করা টাকা উঠে আসছে না। আমাদের সময়ে ১২শ' সিনেমা হল ছিল। এখন সেটা ১০০-তে নেমে এসেছে। কোথায় হল বাড়বে, সেটা না হয়ে আরও কমছে। বিষয়টি শুনে খারাপ লাগে।

বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে শাবানা একটি 'মিথ'। এই সময়ের নায়িকাদের মাঝে কাকে আপনার উত্তরসূরি ভাবা যায় বলে মনে করেন?

আমাদের পরে মৌসুমী, শাবনূর তো ভালো কাজ করেছে। ওদের দু'জনের অভিনয়ও দারুণ। পূর্ণিমাও ভালো কাজ করত। এখন মনে হয়, কাজ কম করে। পপিও ছিল। এদের পর জয়া আহসান, তিশাসহ অনেকেই ভালো কাজ করছে, কিন্তু সবার নাম জানি না।

এফডিসিতে এখন সমিতি চর্চা বেশি হচ্ছে। কলা-কুশলীদের ১৬টিরও বেশি সমিতি আছে। কিন্তু সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে কম। আপনাদের সময়ে এই সমিতি চর্চা কতটা ছিল?

এফডিসিতে সমিতি চর্চার সঙ্গে আমরা পরিচিত ছিলাম না। আমাদের সময়ে এগুলো করার সময়ই তো ছিল না। তখন সবাই কাজ নিয়ে ব্যস্ত। কত ভালো কাজ উপহার দেওয়া যায়, সেটা নিয়েই চলত প্রতিযোগিতা। সমিতি তো আমাদের সময় ছিল না বললেই চলে। এফডিসিতে প্রতিটি ফ্লোরে সিনেমার শুটিংয়ের জন্য তো সিরিয়ালই পাওয়া যেত না। সেখানে সমিতি চর্চা করার জায়গা বা সময় কই? এ জন্য অনেক ভালো ভালো কাজও বের হয়ে এসেছে।

চলচ্চিত্র নিয়ে কোনো প্রত্যাশার কথা জানতে আপনি কী বলবেন?

যতদূর জানি, আমাদের ঢাকার চলচ্চিত্র ব্যবসা একেবারেই খারাপ যাচ্ছে। হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে মাল্টিপ্লেক্স কালচার চালু হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় মাল্টিপ্লেক্স হলে সিনেমা ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াবে হয়তো। আর শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্রে সিনসিয়ার থাকতে হয়। পরিচালককে হতে হয় অনেক দক্ষ। একজন পরিচালকের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। তাই যারা সিনেমা বানাবেন, তাদের মধ্যে শিক্ষা ও সততা যেন থাকে।

আপনার স্বামী ওয়াহিদ সাদিক নাম করা প্রযোজক। আপনাদের এসএস প্রডাকশন থেকে দর্শকনন্দিত অনেক ছবি নির্মিত হয়েছে। সেসব ছবির কোনো রিমেক করার ইচ্ছে আছে কিনা?

ওর সিনেমা বানানোর ইচ্ছা এখনও আছে। তবে রিমেক ছবি কিন্তু ব্যবসা সফল হওয়ার খুব একটা ইতিহাস নেই। কারণ রিমেক ছবির বেলায় আগের ছবির ফ্লেভারটাই থেকে যায়। সেখান থেকে দর্শকরা বের হতে পারে না। যতদূর জানি, চলচ্চিত্রে পরিবেশ ভালো হলে 'মাটির ঘর' রিমেক করার ইচ্ছা আছে। অবশ্যই এ সময়ের চাহিদা মাথায় রেখেই নির্মিত হবে।

একজন শাবানার কোনো অপূর্ণতা আছে কি?

না। শাবানার কোনো অপূর্ণতা নেই। সবই পেয়েছি আমি। অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছি; এখনও পাচ্ছি।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা