• সোমবার   ১৬ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৯

  • || ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩

ষাট গম্বুজ বার্তা

গরমে সুস্থ থাকতে যেসব খাবার খাবেন :পুষ্টিবিদ উম্মে তাবাসসুম রোশনী

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২২  

প্রচন্ড গরমে শরীর ঠিক রাখতে, কী কী খাবেন আর কী কী খাবেন না, পুষ্টিবিদ উম্মে তাবাসসুম রোশনী আজ তা জানাচ্ছেন....
রমের এই সময়টা সবার কাছেই অস্বস্তিকর। প্রচণ্ড গরমে মানুষের নাজেহাল অবস্থা। এই অসহনীয় গরমে খাবারে একটু এদিক-সেদিক হলেই দেখা দিতে পারে পেটের সমস্যা (খাদ্য হজম না হওয়া,পেট ফাপা, ডায়রিয়া ও আমাশয়)। প্রচণ্ড গরমে শরীরের ও বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা যায় যেমন-দেহে সোডিয়াম কমে যাওয়া, পটাসিয়াম কমে যাওয়া, বমি হওয়া। এ শারীরিক পরিবর্তনগুলোকে প্রতিরোধ করতে খাবারের গুরুত্ব অপরীসিম। আমাদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভাসের কিছু পরিবর্তন আনলে গরম আবহাওয়াতেও অনেকটা সতেজ থাকা সম্ভব। তাই গরমের খাবারদাবার নির্বাচনে হতে হবে কৌশলী।

গরমে সঠিক পুষ্টির লক্ষ্যে সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সে দিকগুলো খেয়াল রাখতে হবে।

[] পানি গরমে আমাদের পিপাসার নিবারণ ঘটায় । তাই গরমকালে ঘন ঘন পানি পান করুন, এতে শরীরে তৃপ্তি লাগবে। বিশুদ্ধ পানি গ্রহণের কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। চারদিকে ডায়রিয়ার প্রকোপ চলছে । তাই বিশুদ্ধ পানির বিকল্প নেই। প্রতিদিন ২.৫- ৩ লিটার পর্যন্ত পানি গ্রহণ যথেষ্ট । তবে কিডনি রোগী ও ফ্লুয়িড রিটেনশন সিনড্রমের রোগীরা পানি গ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। 

[]  ডাবের পানি একটি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটস । এটি আমাদের শরীরকে আর্দ্র রাখে ও পাশাপাশি শরীর সতেজ রাখে । তাই গরমে স্বস্তি পেতে ডাবের পানি পান করতে পারেন।

[]  শরবত বা জুস- লেবুর শরবত বা যে কোন ফলের জুস  যেমন- তরমুজ, পেপে, বাঙ্গি, বেল, কলা, ইসবগুলের ভুসি, তোকমা ইত্যাদি শরবত শরীরের জন্য খুব উপকারী। গরমে যে পরিমাণ ঘাম বের হয়ে যায় তা পূরণের জন্য শরবত কার্যকরী। ফলের জুসে ভিটামিন সি,পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ স্থিতিশীল করে  দেহকে ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বক মৃসণ রাখে।  

[]  গরমে পোলাও , বিরিয়ানি জাতীয় খাবার না খেয়ে সাদা ভাত খাওয়া উত্তম। সঙ্গে পাতলা ডাল, ঝোল দিয়ে রান্না করা মাছ, টক দই দিয়ে সালাদ- শসা, টমেটো, গাজর, কাঁচা পেঁপে, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, পেঁয়াজ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি সালাদ খেতে পারেন ।  শাক-সবজি যেমন- ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পটোল, করলা, পেঁপে, কচু, বরবটি, চালকুমড়া, শসা , সজনে , লাউ, ইত্যাদি বেশি করে খেতে হবে। এই সবজিগুলো শরীরকে বেশ ঠাণ্ডা রাখে। প্রত্যেকবার খাবারের সঙ্গে অল্প করে সবজি খেলে শরীরে পানির মাত্রা কমে যাওয়ার আশংকা কমে।  

[]  গরমে মাংস (গরু, খাসি) পরিহার করে মুরগির মাংস , ছোট মাছ, খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে দৈনিক আমিষের চাহিদা পূরণ করতে হবে। 

[]  ভাজাপোড়া,তৈলাক্ত খাবার ও জাঙ্ক ফুড - পুরি, সিঙ্গারা, চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বার্গার, পিজ্জা, চিজ , ইত্যাদি ভাজাপোড়া খাবারের থেকে নিজেকে যতটা দূরে রাখবেন ততটা উত্তম। কারণ শরীরের তাপামাত্রা বাড়াতে এবং গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টিতে এই খাবারগুলোই দায়ী। এসব খাবারের কারণে হজমের সমস্যা দেখা দেয়।

[]  গরমে সবসময় হালকা খাবার খাবেন। ঝাল ও মসলাদার খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন কেননা মরিচ, আদা, গোলমরিচ, জিরা, দারুচিনি ইত্যাদি বিপাকক্রিয়ার গতি বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় । তাই এ সময়টায় হালকা খাবার খাওয়াই ভালো। যা শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে। 

 

লেখক : পুষ্টিবিদ
ইসলামী হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক লিমিটেড,
আমতলা মোড়, নিরালা, খুলনা।

 

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা