ব্রেকিং:
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতিকে অব্যাহতি
  • মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৮

  • || ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

ষাট গম্বুজ বার্তা

সুপারির বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে খুশির ঝিলিক

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০২১  

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর ফলন ভালো হওয়ায় সুপারি চাষিদের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক দেখা গেছে।

উপজেলার সর্বত্র গ্রামীণ হাট-বাজারে জমে উঠেছে সুপারি ক্রয়-বিক্রয়। ক্রেতা- বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত পুরো হাট ও আশপাশের এলাকা। উপজেলার কচুয়া সদর ও বাধাল বাজার সহ সাইনবোর্ড বাজার,ভাষা বাজার সহ বিভিন্ন হাটবাজারে প্রতিদিনই সুপারির জমজমাট ভাবে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। বৃহস্পতি ও সোমবার  কচুয়ার হাট, রবি ও বৃহস্পতিবার  বাধালের হাট ও সোম ও শুক্রবার সাইনবোর্ডের হাট বসে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও বিভিন্ন জেলার পাইকাররাও এসব বাজারে শুপারি ক্রয়ের জন্য করতে আসছেন। মুহূর্তে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে লাক্ষ লাক্ষ টাকার সুপারি। তারপর গননা করে বস্তা বন্ধি করা হয়।  এরপর  ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাজধানী ঢাকা, চট্রগ্রাম, দিনাজপুর, সৈয়াদপুর, রংপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলার আড়তে। তাছাড়া সুপারি মজুদকারীরাও এসব হাট বাজারে এসে ক্রয় করছেন। হাজার হাজার চাষি, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে প্রতি  হাটের দিন। অনেকটা বিনা খরচ ও বিনা পরিচর্যায় উৎপাদিত হয় বলে সুপারি চাষে এমনিতেই আগ্রহ থাকে কৃষকের। তারওপর চলতি মৌসুমের বাম্পার ফলন কৃষকের খুশি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

কচুয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সুপারি (চাষি) বিক্রেতা মিরাজুল ইসলাম রাজা বলেন, এ বছর উপজেলার সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। সুপারির আকারও অনেক ভালো। তেমন কোনো খরচ বা পরিচর্যা ছাড়াই সুপারির এমন বাম্পার ফলনে স্থানীয় চাষিরা বেশ খুশি। এবার সুপারির বাম্পার ফলন হওয়ায় দাম একটু কম থাকলেও ফলন গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ায় আমরা খুশি। এমনিতে একবার সুপারি গাছ ফলন দেওয়া শুরু করলে তা অব্যাহত থাকে। তবে বিগত কয়েক বছরের চেয়ে এ বছর সুপারির ফলন কয়েকগুণ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এমনটা হয়েছে। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৫০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করেছেন। আরো ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এ জন্য গাছ থেকে সুপারি নামানো (পাড়া) আর হাটে নিয়ে যাওয়া ছাড়া তেমন কোনো খরচই বহন করতে হবে না।

পাইকারি ব্যবসায়ী কিয়াম গাজীসহ কয়েকজন জানান, উপজেলায় এবার ভালো ফলন হওয়ায় স্থানীয় হাটগুলোতে প্রচুর সুপারি আমদানি হচ্ছে। আবার এবার সুপারির সাইজ ভালো হওয়ায় দামও ভালো উঠছে। প্রতি কুড়ি (২৩১টি) পাকা সুপারি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকায়। বিভিন্ন হাট থেকে প্রয় প্রতিদিনই সুপারি কিনছেন। কিছু স্থানীয় বাজারের জন্য মজুদ করছেন আর কিছু দেশের বিভিন্ন স্থানের আড়তদারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে তার বেশ ভালো লাভ থাকবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ একে শাহবুুদ্দিন আহম্মেদ জানান, কচুয়া উপজেলায় ১২ হাজার ৩ শত ৩২ হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদিত হয়। পাশাপাশি লাভজনক হওয়ায় এ ফসল গ্রামীণ অর্থনীতিতে বেশ ভালো অবদান রাখছে। তিনি বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসেবে দিন দিন উৎপাদন বাড়ায় এ অঞ্চলের কৃষক সুপারি চাষের দিকে আগের চেয়ে অনেকটাই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা