• রোববার   ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১০ ১৪২৮

  • || ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ষাট গম্বুজ বার্তা

সুপেয় পানি

মোংলা বন্দরে ২৫ কোটি টাকার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২১  

আগামীকাল ০১ লা ডিসেম্বর, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্রবন্দরের ৭১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। দীর্ঘ এই সময়ে অনেক চড়াই উৎড়াই পাড় করতে হয়েছে মোংলা বন্দরকে। ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে মোংলা বন্দরের। তারপরও কিছু সীমাবব্ধতা  রয়েছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির। এসবের মধ্যে অন্যতম ছিল সুপেয় পানির ব্যাপক সংকট। সুপেয় পানির এই সংকট মেটাতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। নির্মানাধীন এই প্লান্ট সম্পন্ন হলে প্রতিদিন ৫০ লক্ষ লিটার সুপেয় পানি সরবরাহ করা যাবে বন্দর এলাকায়। এর ফলে মোংলা বন্দর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট এলাকার সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ হবে। এই পানির প্লান্ট থেকে পানি সরবরাহ শুরু হলে বন্দর ব্যবহারকারী, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর সংলগ্ন বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষের জীবন যাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোংলা বন্দর সূত্রে জানা যায়, মোংলা বন্দর ভবন থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের দিগরাজ মোড়ে ৩৩ শতাংশ জমির নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এ প্লান্ট নির্মাণে ব্যয় হবে ২৪ কোটি ৭২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তিতাস বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই প্লান্ট নির্মান করছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির ভবনসহ অবকাঠামোর কাজ ইতোমধ্যে ৯২ শতাংশ শেষ হয়েছে। ২০২১ সালের জুনে এই প্রকল্পের সকল কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, করোনার কারণে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত কাজের সময় বর্ধিত করা হয়েছে। এই প্লান্ট থেকে পানি সরবরাহ শেষ হলে, সমুদ্রগামী জাহাজ, বন্দর অফিস, আবাসিক এলাকা, বন্দর সংলগ্ন বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থাসমূহের সুপেয় পানির বর্ধিত চাহিদা পূরণ হবে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সমুদ্র উপকূলবর্তী হওয়ায় ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মোংলা বন্দরে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। মোংলা পোর্ট পৌরসভার বাসিন্দাদেরও রয়েছে প্রকট পানির চাহিদা। সমুদ্র থেকে সরাসরি নদীতে লবন পানি ঢুকে পড়ায় খাবার পানির জন্য একমাত্র বৃষ্টির উপরই নির্ভর করতে হত মোংলা বন্দর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট মানুষদের। সুপেয় পানির অভাবে বন্দর সংলগ্ন এলাকার চাকুরীজীবীরা মোংলায় বসবাস না করে খুলনা ও বাগেরহাটে বাসাভাড়া থাকতেন। স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের দাবি সুপেয় পানির জন্য সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমুদ্রগামী জাহাজ কর্তৃপক্ষ, মোংলা বন্দরের শ্রমিক, কর্মচারী-কর্মকর্তাসহ এলাকাবাসী।

বন্দর কর্মরত বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিকরা জানান, আমরা বন্দরের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকি। বন্দরে কাজ করেই আমাদের জীবীকা নির্বাহ করতে হয়। কিন্তু বন্দরের অভ্যন্তরে আমাদের তেমন কোন সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি কিনে নিয়ে যায় তারা। শুনেছি এই পানির সংকট মেটাতে একটি বড় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট হচ্ছে। এটি হলে আমাদের জিন্য খুব উপকার হবে।

মোংলা বন্দর সংলগ্ন এলাকার চাকুরীজিবি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বন্দরের চার পাশে প্রচুর পানি। এরপরেও বন্দর এলাকার সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে সুপেয় পানির অভাব। কারণ পশুর নদীর পানি হচ্ছে লবনাক্ত। এই পানির অভাবেই আমরা মোংলাতে রাত্রিযাপন করতাম না। সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মান হলে আমাদের পানির চাহিদা মিটবে। এই এলাকার স্থানীয় মানুষ ও চাকুরীজীবীরা ভাল থাকতে পারবেন’।

মোংলা বন্দরের জন্য সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অনুপম গাইন বলেন, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি মোংলা বন্দর এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যাতে এই প্রকল্পটি সঠিকভাবে শেষ করার জন্য। কিন্তু করোনা ভাইরাসসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা সময়মত শেষ করতে পারিনি। যার ফলে কিছুটা সময় বৃদ্ধি করতে হয়েছে। আশা করি ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এই প্লান্টের কাজ শেষ হবে। এখান থেকে পানি সরবরাহ শুরু করতে পারব।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা