• সোমবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১১ ১৪২৮

  • || ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ষাট গম্বুজ বার্তা

দেশ স্বাধীনের দুই দিন পরে হানাদারমুক্ত হয় শরণখোলা

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর ২০২১  

১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও শরণখোলা শত্রুমুক্ত হয় তারও দুই দিন পরে। ১৪ ডিসেম্বর থেকে টানা পাঁচদিন সম্মুখযুদ্ধ চলে এখানে। শেষ যুদ্ধে শত্রু বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন পাঁচ বীর যোদ্ধা। রাজাকারও মারা যায় ১৭ থেকে ১৮ জনের মতো। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত আক্রমণে পরাস্থ হয়ে তৎকালীন থানা সদর রায়েন্দা বাজারের তিনটি ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যায় রাজাকাররা। ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শরণখোলাকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন ৯নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাবসেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ (অবসর প্রাপ্ত)।

সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রণকারীদের তথ্য মতে, শেষ মুহূর্তে রাজাকারবাহিনী শরণখোলার তৎকালীন থানা সদর রায়েন্দা বাজারের আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আকনের বাসভবন, থানা ভবন ও রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন দখল করে ঘাটি (ক্যাম্প) স্থাপন করে। পরে স্বাধীনতার পক্ষের এবং নিরীহ মানুদের ধরে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন শুরু করে। এই খবর জানতে পেরে সুন্দরবন থেকে দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা এসে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠন করা হয় পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল নামে দুটি দল। ৯নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাবসেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও সেকেন্ড ইন কমান্ড শামছুল আলম তালুকদারের নেতৃত্বে পূর্বাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন যুদ্ধকালীন ইয়াং অফিসার ও স্টুডেন্ট ক্যাম্প কামন্ডার হেমায়েত উদ্দিন বাদশা। আর পশ্চিমাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন মোরেলগঞ্জের সুবেদার আব্দুল গফ্ফার।

পূর্বাঞ্চল দলের কমান্ডিং অফিসার হেমায়েত উদ্দিন বাদশা বলেন, রামপালের সহযোদ্ধা শ্যামল এলএমজির কভারিং ফায়ারের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি উপর থেকে রাজাকার ক্যাম্প লক্ষ্য করে ফায়ার করতে থাকেন। আর অগ্রবর্তি দলের ২০-২৫ জন যোদ্ধা নাছির মিয়ার ভবনে রাজাকার ক্যাম্পের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। ১৪ ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে ফায়ারিং ওপেন করার পাঁচ মিনিটের মাথায় রাজাকারের গুলিতে অগ্রবর্তী দলের যোদ্ধা গুরুপদ শহীদ হন। গুলিতে তাঁর মাথার খুলি উড়ে যায়। বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে শহীদ হন টিপু সুলতান ও আসাদুজ্জামান। রাতে শহীদ হন আলাউদ্দিন। ১৫ ডিসেম্বর শহীদ হন আলতাফ হোসেন। পর পর পাঁচ সহযোদ্ধা শহীদ হওয়ায় সবার মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। আক্রমণের গতি আরো ক্ষীপ্র হয়ে ওঠে।

প্রবাসী সরকারের নিয়োগকৃত ৯নম্বর সেক্টরের গেরিলা দলনেতা ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার এম আফজাল হোসাইন বলেন, ১৭ ডিসেম্বর দিনভর যুদ্ধ চলে। বেশিরভাগ রাজাকার ওই রাতে নাছির উদ্দিন আকনের বাসভবনের ক্যাম্প ছেড়ে রায়েন্দা খালের সঙ্গে সংযুক্ত ১০০ ফুট দীর্ঘ গোপন সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে পালিয়ে যায়। ১৮ ডিসেম্বর সকালে তিনটি ক্যাম্প তল্লাশী করে এবং গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পলাতক ১৭-১৮ জন রাজাকারকে জীবিত পাওয়া যায়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা পিটিয়ে হত্যা রাজাকারদের।

ওইদিন সকাল ১০টার দিকে সুন্দরবন সাবসেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিন আহমেদ থানা ভবনে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে শরণখোলাকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করেন। একই দিন বিকেল ৪টার দিকে রায়েন্দা পাইলট হাইস্কুল মাঠে চার শহীদের জানাজার নামাজ শেষে রায়েন্দা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে দাফন করা হয়। আর ১৫ ডিসেম্বর গুরুপদকে সমাহিত করা হয় সুন্দরবন সংলগ্ন সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের পানিরঘাট এলাকায়।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা