• শুক্রবার   ১২ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৯

  • || ১৫ মুহররম ১৪৪৪

ষাট গম্বুজ বার্তা

চিতলমারীতে পাট পঁচাতে না পেরে বিপাকে চাষিরা

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২২  

‘শ্রাবণের আজ ১৭ তারিখ। হিসাব মতে, বর্ষাকাল প্রায় শেষ। অথচ কাঙ্খিত বৃষ্টির দেখা নেই। তাই ক্ষেত-খামারের আশেপাশের ডোবা, নালা ও জলাশয়ে পানি নেই। কিছু এলাকায় যেটুকু পানি আছে তা দিয়ে পাট পচানো সম্ভব নয়। অনেক জমিতে পাটগাছ বড় হয়ে পানির অভাবে পাতা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টি না হওয়ায় বহুকষ্টে উৎপাদিত পাট জাগ দিতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কয়েক হাজার পাট চাষি।’ আজ সোমবার (০১ আগস্ট) দুপুরে এমনটাই বলেছেন উপজেলার বড়গুনি বাজারের বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী ও বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাসুদ সরদার।

তিনি আরও জানান, সোনালী আঁশ পাট দামে-দরে তাঁর পূরানো ঐতিহ্যকে আবারও কৃষকের মাঝে তুলে ধরেছে। পরপর কয়েক বছর দাম ভাল থাকায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। তাই অন্য সব ফসলের পাশাপাশি এ বছর পাটের চাষ বেশী হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে পাট উৎপাদন করতে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর প্রতি বিঘা জমি থেকে ১২-১৪ মণ পাট উৎপাদন হবে। বর্তমানে প্রতিমন পাট ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নানা কাজে খড়ির (পাটকাঠি) ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং বেশ চড়া দামে বিক্রি হয়ে থাকে। সে হিসেবে সময়মত ঘরে পাট তুলতে পারলে চাষিরা খুব লাভবান হবেন। আর পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারলে অনেক চাষি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

উপজেলার বড়গুনি গ্রামের পাট চাষি মোহাম্মদ ইমরাত সরদার, মনির শেখ, বুলবুল শেখ, হাড়িয়ার ঘোপের দিপেন বৈরাগী, বিজয় বৈরাগী, শ্যাম বাড়ৈ, বোয়ালিয়া গ্রামের ইয়াকুব ফকির ও টুটুল সরদার জানান, এ বছর তাঁরা অনেক আশা নিয়ে পাটের আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না। উপজেলার অধিকাংশ পাট চাষির তাঁদের মত একই অবস্থা। গত বছর দাম বেশি পাওয়ায় চলতি বছর পাটের আবাদে ঝুঁকেপড়েন। পাট আবাদ নির্বিঘেœ হলেও এখন পাট কাটা ও জাগ দেয়া নিয়ে তাঁরা মহাবিপদে পড়েছেন। উপযুক্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দেয়া খুব সমস্যা হচ্ছে। তাই বহুকষ্টে উৎপাদিত পাট নিয়ে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন।  

চিতলমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অসীম দাশ জানান, চলতি বছর এ উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে মোট ২ হাজার ১০০ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে কৃষকেরা পাট পচাতে পারছেন না। কম পানিতে কিছু পাট জাগ দিলেও তার ফলাফল ভাল হচ্ছে না। কারণ বেশি পানিতে পাট পচাতে পারলে পাটের আঁশ সাদা পাওয়া যায়। তাতে কৃষকেরা দাম বেশি পান।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা