• সোমবার   ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৪ ১৪২৯

  • || ১৫ রজব ১৪৪৪

ষাট গম্বুজ বার্তা

রামপালে মাছের পেটে বিষ দিয়ে অবাধে পাখি শিকারের অভিযোগ

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২৩  

বাগেরহাটের রামপালে পুঁটি মাছের পেটে বিষ দিয়ে অবাধে পাখি শিকার চলছে। উপজেলার রাজনগর, হুড়কা, গৌরম্ভা, উজুলকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মাঠে অল্প পানিতে পুঁটি ও চ্যালা মাছের পেটে সানফুরান জাতীয় বিষ ঢুকিয়ে রেখে দেওয়া হয়। বক, পানকৌড়ি, বুনোহাঁস, চিল, ডগমখুর, শামুকভাঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি এসে এসব মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে দূরে অপেক্ষারত শিকারি এসে পাখি ধরে জবাই করেন। পরবর্তীতে তারা স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন দামে এসব পাখি বিক্রি করেন।
রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের হামিদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি জানান, এলাকায় কিছু মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে বিষযুক্ত মাছ দিয়ে পাখি শিকার করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। দূরদূরান্ত থেকে এসে পাখি কিনে নেয় অনেকে। বিষ মেশানো এই পাখি খেয়ে অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েন। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পাখি শিকার বন্ধের দাবি জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিকারি বলেন, ছোটবেলায় শখের বসে ধরলেও ৫ বছর ধরে ব্যবসার উদ্দেশ্যে পাখি শিকার করি। বছরের ৫ মাসের বেশি পাখি বিক্রির টাকায় সংসার চলে। আকারভেদে ২০০-১৬০০ টাকা পর্যন্ত একেকটি পাখি বিক্রি হয়। এই সময়টা ভালোই চলে আমাদের। তবে একটু গোপনে করতে হয়। 
পাখি শিকার বৈধ কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অনেকেই তো করছে। আর পাখি তো হাজার হাজার আছে। এই আয়ে আমাদের সংসার চললে ক্ষতি কী? 
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম বলেন, পাখি শিকারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন এলাকার শিকারিদের তালিকা করা হচ্ছে। খুব দ্রুত শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। 
বিষের ক্ষতি সম্পর্কে বাগেরহাটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষ দিয়ে শিকার করা পাখি বা কোনো প্রাণী নিয়মিত খেলে মানুষের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী নানান জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি কিডনি, লিভারসহ দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা