• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ষাট গম্বুজ বার্তা

পদ্মা সেতু

ষাটগম্বুজে ২৮ লাখ ও সুন্দরবনে কোটি টাকা বেড়েছে রাজস্ব

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৩  

একদিকে সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য, অন্যদিকে ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ। পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় বাগেরহাটে ইউনেস্কো ঘোষিত দেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যের দুটি রয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে পুরাকীর্তির অনেক নিদর্শন। সুন্দরবন ও এসব প্রাচীন স্থাপনার টানে প্রতি বছর লাখ লাখ দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসু আসেন। কিন্তু করোনাকালে ধাক্কা খেয়েছে জেলার পর্যটন খাত। সরকারের রাজস্ব আয়ও নামে অর্ধেকে।

তবে করোনা সংক্রমণ কমায় এবং পদ্মা সেতু চালুর পর বদলে গেছে বাগেরহাটের পর্যটন খাতের চিত্র। যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে পর্যটক বাড়ছে। রাজস্ব আয়ও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দুটি বিশ্ব ঐতিহ্য ছাড়াও ইউনেস্কোর তালিকায় রয়েছে বাগেরহাটের ১৭টি স্থাপনা। ফোর্বস সাময়িকীর তালিকায় হারিয়ে যাওয়া শহর বাগেরহাট। পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ওয়াচের তালিকাভুক্ত বিশ্বের ২৫টি ঐতিহাসিক স্থানের একটি এ জেলা।

তবে দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ পর্যটকসহ সংশ্লিষ্টদের। ষাটগম্বুজ মসজিদ ছাড়া অন্য স্থাপনাগুলো রয়েছে অবহেলায়। এগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে পর্যটনশিল্প হোচট খাবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। পর্যটকদের নানান ফিও সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে।

ঢাকা থেকে আসা ত্বহা, আমিনুল ও খালিদ নামের তিন বন্ধুর ভাষ্য, ষাটগম্বুজ মসজিদ ছাড়া অন্য স্থাপনাগুলোয় না আছে নিরাপত্তা, না আছে সংরক্ষণের উদ্যোগ। গরু-ছাগল চরছে, স্থানীয়রা কাপড় শুকাচ্ছে। সাতক্ষীরা থেকে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সালের সঙ্গে কথা হয় রেজা খোদা মসজিদের সামনে। তিনি বলেন, অনেক কষ্টে মসজিদ পর্যন্ত এলেও ভগ্নদশা দেখে হতাশ। শুনেছেন অন্যগুলোর অবস্থাও এমন।

এরপর পদ্মা সেতু চালু ও করোনা সংক্রমণ কমায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ষাটগম্বুজ মসজিদে রেকর্ড ৪ লাখ ৯৬ হাজার দেশি ও এক হাজার ৪৮২ জন বিদেশি দর্শনার্থী এসেছেন। রাজস্ব এসেছে ৯১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। বছরের ব্যবধানে ২৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা রাজস্ব ও এক লাখ ৮১ হাজার দর্শনার্থী বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৮৯ জন বিদেশিসহ দর্শনার্থী ৩ লাখ ১৫ হাজার ও রাজস্ব আয় ছিল ৬৩ লাখ ২৩ টাকা।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ লাখ দর্শনার্থী ও রাজস্ব ৭৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯০ বিদেশিসহ ২ লাখ ৪১ হাজার দর্শনার্থী ও ৫৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনার কারণে পাঁচ মাস দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। বাকি সময়ে দর্শনার্থী আসে প্রায় দুই লাখ, রাজস্ব আয় হয় ৪৫ লাখ ৫ হাজার টাকা।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সুন্দরবনে দর্শনার্থী ছিল এক লাখ ১৯ হাজার ১০৫ জন, রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ১৯ লাখ ৫ হাজার টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দর্শনার্থী এক লাখ সাত হাজার ও রাজস্ব ১ কোটি ৪ লাখ ৯৭ হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনাকালে ৮৩ হাজার ৮৩৮ জন ও রাজস্ব ৬৭ লাখ ৭ হাজার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮২ হাজার ২৪৭ জন ও রাজস্ব ৮৮ লাখ ৯৪ হাজার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে দর্শনার্থী এক লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৬ জন ও রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার টাকা। বছরের ব্যবধানে ১ কোটি ১৮ হাজার টাকা রাজস্ব ও ৫৭ হাজার দর্শনার্থী বেড়েছে।

পদ্মা সেতুর ফলে বাগেরহাটের পর্যটনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বলে জানান ষাটগম্বুজ-সুন্দরবন ট্যুরিজম ট্যুর অপারেটরের পরিচালক মীর ফজলে সাঈদ ডাবলু। তবে দর্শনার্থীবান্ধব করতে হোটেল-রেস্টুরেন্টের মালিক-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করায় গুরুত্ব দেন তিনি। একই কথা জানিয়ে ষাটগম্বুজ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, জেলার প্রবেশপথে ব্যানার বা বিলবোর্ডের মাধ্যমে দর্শনীয় স্থাপনার বর্ণনা, যাতায়াত, খাবার ও হোটেলের ঠিকানা লিখে রাখলে দর্শনার্থীদের ভ্রমণ সহজ হবে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি ষাটগম্বুজ মসজিদে দেশি পর্যটকদের প্রবেশ ফি ২০ এর স্থলে ৩০ টাকা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফি ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০, বিদেশিদের ২০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ এবং সার্কভুক্ত দেশের পর্যটকদের ১০০ থেকে বাড়িয়ে ফি করা হয়েছে ২০০ টাকা। শিশু ও প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ফ্রি। মোটরসাইকেল পার্কিং ফি ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০, জিপ, প্রাইভেটকার ও মাইক্রো ৫০-এর স্থলে ৭০, বাস ও ট্রাক ১০০ টাকার স্থলে ২৫০ টাকা হয়েছে। সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, দর্শনার্থীদের জন্য লোকালয়ে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা (হোম স্টে) করতে পারলে স্থানীয়রা লাভবান হবেন। ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। ঘোড়াদিঘিকে নান্দনিক করতে ওয়াকওয়ে করা হয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনে চারটি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এক বছরে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী বেড়েছে কয়েকগুণ। নতুন ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র চালু হলে রাজস্ব ও দর্শনার্থী আরও বাড়বে।

বাগেরহাটকে পর্যটনবান্ধব করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন বলেন, শোভাবর্ধন, আবাসন ব্যবস্থা, মানসম্মত খাবার, বিপণন কেন্দ্র, সহজে যাতায়াত, সার্বিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা আছে।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা