• বৃহস্পতিবার   ২৯ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮

  • || ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ষাট গম্বুজ বার্তা

কালমেঘের প্রাকৃতিক গুনাগুন

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২১  

কালমেঘ আমাদের দেশে একটি বহুল প্রচলিত ভেষজ উদ্ভিদ। এই গাছের গড় উচ্চতা ১ মিটার। এই গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের ১ সেমি লম্বা ফুলের রং গোলাপী। দেড় থেকে দু সেমি লম্বা ফল অনেকটা ধানের মতো দেখতে। অকেনথেসি বর্গের অন্তর্ভুক্ত এই গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম অ্যান্ড্রোগ্রাফিস পানিকুলাটা।

কালমেঘ বা অ্যান্ড্রোগ্রাফিস পানিকুলাটা, যার উল্লেখ আমরা প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পেয়ে আসছি। এর নিয়মিত সেবন আমাদের নানা রকম রোগের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখে। এর ঔষধি গুনের জন্য সংস্কৃতে একে ‘সর্ব রোগ নিবারণী ‘ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এর স্বাদ অত্যন্ত্য তিৎকুটে, তাই একে ‘কিং অফ বিটারনেস’ বলা হয়ে থেকে।

কালমেঘের গুণাগুনঃ

কালমেঘ পাতা রক্তকে পরিশুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া এতে প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ফলত আমাদের ত্বকের নানারকম সমস্যার  ক্ষেত্রে কালমেঘ পাতা অত্যন্ত্য কার্যকরী। এছাড়া কালমেঘ পাতা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

আলসার প্রতিরোধক হিসেবে কালমেঘ পাতার রস খাওয়া হয়।কালমেঘ পাতা হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।এছাড়া এর নিয়মিত সেবন আমাদের শারীরিক শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। অনিয়মিত মাসিক এর সমস্যা বা এর থেকে হওয়া নানা রকম অবাঞ্চিত সমস্যার ক্ষেত্রে কালমেঘ পাতার রস উপকারী।

সর্প দংশন বা বিছে বা এই ধরণের বিষাক্ত প্রাণীর কামড়ের উপশম হিসেবে কালমেঘ পাতার সাথে পুরো গাছ টিকেই ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে কুষ্ঠ রোগ এবং কলেরার চিকিৎসা করতে কালমেঘপাতা ব্যবহৃত হয়। তবে গর্ভবতী মহিলাদের কালমেঘ পাতার সেবন একেবারেই উচিত নয়।

কালমেঘ পাতা ডায়াবেটিস এর অব্যর্থ ওষুধ। এটি আমাদের শরীরে ব্লাড সুগার এর পরিমানকে কম রাখতে সাহায্য করে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ মতোই এক্ষত্রে এর সেবন করা উচিত।

কালমেঘ ক্যান্সার নিরাময় এর ক্ষেত্রেও অত্যান্ত উপকারী। এর ঔষধি গুন আমাদের শরীরে ক্যান্সার এর কোষগুলিকে সক্রিয় হতে দেয় না বা ক্যান্সারের কোষগুলিকে বাড়তে দেয় না। এটি ক্যান্সার রোগীদের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

লিভার জনিত যে কোনো রকম সমস্যার অব্যর্থ ওষুধ এই কালমেঘ পাতা। এটি লিভার টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অতিরিক্ত মদ্য পান, বা অতিরিক্ত কড়া ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন করলে আমাদের লিভার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কালোমেঘ পাতা এর নিরাময়ক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া আজকাল আমাদের খাদ্যাভাস বা ফল ও সবজিতে ব্যবহৃত পেস্টিসাইড আমাদের লিভারকে খারাপ করে দেয়। কালোমেঘের নিয়মিত সেবন এই সমস্যার সবথেকে ভালো সমাধান।

কালমেঘ পাতা আর্থারাইটিস ও গাউট এর ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ১৫ থেকে ২০টি কালমেঘ পাতার রস করে প্রতিদিন খেলে আর্থারাইটিস বা গাউট এর সমস্যা থেকে দূরে থাকা যেতে পারে।

কালমেঘ পাতা জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যাথা, গলা বসে যাওয়া, টন্সিলাইটিস ইত্যাদি ক্ষেত্রে ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কালমেঘ পাতা ভালো করে ধুয়ে হালকা গরম জল মিশিয়ে ছাঁকনিতে চেকে নিতে হবে। এই কালমেঘ পাতার রস যেকোনো রকম ঠান্ডা লাগা জনিত রোগ খুব তাড়াতাড়ি সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তবে এর স্বাদ অতন্ত্য তিৎকুতে, তাই রস খাওয়ার সাথে সাথে এক চামচ মধু খেয়ে নিলে ভালো।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা