• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ষাট গম্বুজ বার্তা

ঘুমের মধ্যে দম আটকায় কেন, আটকালে করণীয়

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর ২০২৩  

প্রশান্তির ঘুম কে না চায়, কিন্তু স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। ঘুমের মাঝে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জটিল সমস্যা কারো কারো দেখা যায়। এটিই স্লিপ অ্যাপনিয়া।

স্লিপ অ্যাপনিয়া মানেই যে কেবল ঘুমের সমস্যা তা নয়, এর সঙ্গে শ্বাস–প্রশ্বাসের ব্যাঘাত ঘটে, বেড়ে যায় হৃদ্‌রোগ ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি। এটি শরীরের সব অংশের ওপরই বিরূপ প্রভাব ফেলে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্লিপ এপনিয়ায় শতকরা ৯০ ভাগ রোগী চিকিৎসা সেবার আওতার বাইরে। এ রোগে মানুষের রেসপিরটারি, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক ফেলিউরের মত জটিল রোগ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়া কী, কেন হয়

স্লিপ হল ঘুম এবং অ্যাপনিয়া বলতে মেডিকেলের ভাষায় শ্বাসরুদ্ধ হওয়া বোঝায়। সে হিসেবে স্লিপ অ্যাপনিয়া হচ্ছে ঘুমানোর সময় শ্বাসনালি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া। শ্বাসনালি যতক্ষণ বন্ধ থাকে, রোগী নিশ্বাস নিতে পারেন না। এতে বাইরে থেকে বাতাসের মাধ্যমে অক্সিজেন শরীরে প্রবেশ করতে পারে না।

এতে মস্তিষ্ক, হার্ট বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিনের পর দিন কিছু সময়ের জন্য অক্সিজেনের ঘাটতির ফলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। যার প্রভাবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্যমতে, ঘুমের সময় আমাদের ঘাড় ও গলার চারপাশের মাংসপেশি শিথিল হলে ভেতরের দিকে এলিয়ে পড়ে। এ কারণে ঘুমানোর সময় সবারই শ্বাসনালীর কিছুটা সংকোচন ঘটে।

মাত্রাতিরিক্ত ওজন এই রোগের অন্যতম একটি কারণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাক-কান-গলার গঠনগত কিছু ত্রুটির কারণেও এ রোগ হতে পারে। আবার মস্তিষ্কের যে অংশ ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে, সেই অংশে কোনো সমস্যা হলেও স্লিপ অ্যাপনিয়া হতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হলে বুঝবেন যেভাবে

স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগীর সমস্যাগুলোর বিস্তারিত ইতিহাস জানাতে হবে চিকিৎসককে। রোগী তার নিজের সমস্যাগুলো নিজে অনেক ক্ষেত্রে বুঝতে পারেন না। যিনি তার পাশে ঘুমিয়ে থাকেন, অধিকাংশ সময় তিনিই লক্ষণগুলো খেয়াল করে থাকেন। লক্ষণ অনুযায়ী সন্দেহ হলে চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে থাকেন।

স্লিপ অ্যাপনিয়া নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করার জন্য পলিসমনোগ্রাফি বা স্লিপ টেস্ট করানোর প্রয়োজন পড়ে। দেশেই এখন এই পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি হোম-বেসড পলিসমনোগ্রাফির মাধ্যমে রোগী বাড়িতে থেকেই এই পরীক্ষা করাতে পারেন।

স্লিপ অ্যাপনিয়া এড়াতে যা করবেন

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। 
  • উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক ওজন মানে বিএমআই বজায় রাখুন। 
  • সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন। 
  • নাকডাকা, ঘুমের মধ্যে বারবার দম আটকে আসা, শ্বাস নিতে কষ্ট ইত্যাদি সমস্যা লক্ষ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • ঘুমের মধ্যে নাকডাকা মানেই স্লিপ অ্যাপনিয়া নয়। তবে ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত নাকডাকা, ঘুমে বারবার ব্যাঘাত ঘটা কিংবা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা হলে অবশ্যই স্লিপ অ্যাপনিয়ার পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।
  • নির্দিষ্ট কোনো ভঙ্গিতে শুয়ে থাকা অবস্থায় নাকডাকার সমস্যা হলে সেই ভঙ্গিতে না শোয়াই ভালো। সুবিধাজনক ভঙ্গিতে শোয়া ভালো।

মনে রাখবেন, যিনি ঘুমের মধ্যে নাক ডাকছেন, তাকে ডেকে বা ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। সাধারণত বাংলাদেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোয় স্লিপ স্টাডির সব ধরনের সুবিধা দেয়া আছে। এই স্লিপ স্টাডি সাধারণত একজন নাক/কান/গলা বিশেষজ্ঞ দেখে থাকেন।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা