• বৃহস্পতিবার   ০৬ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২১ ১৪২৯

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ষাট গম্বুজ বার্তা

মোংলায় নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা, নমুনা সংগ্রহ

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২২  

বিগত কয়েক বছর ধরেই মাটির নীচ থেকে গ্যাস উঠছে সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। মোংলার মিঠাখালির পূর্বপাড়া এলাকায় মাটির নীচ থেকে ওঠা গ্যাসে চলছে রান্নাবান্নার কাজ। এমন সংবাদ স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসার পর তা জানানো হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) কে। আজ বুধবার দুপুরে বাপেক্স এর বিশেষজ্ঞরা ওই এলাকা থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গ্যাস আছে কি না, থাকলেও তার মজুদ কতটুকু, তা পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া বলা একেবারেই সম্ভব নয়। নমুনা নিয়ে ঢাকায় ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। এরপরই এই গ্যাসের ধরণ ও পরিমান জানা যাবে। পর্যাপ্ত পরিমানে গ্যাসের মজুদ থাকলে সেক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
সূত্র জানায়, প্রায় ৬ বছর ধরেই মোংলার মিঠাখালী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়ার দেলোয়ার শেখের পৌনে তিন বিঘার চিংড়ি ঘের থেকে গ্যাসের উদগিরণ হয়ে আসছে। ৬ বছর আগে ঘের মালিক ওই জমি থেকে বালু-মাটি উত্তোলনের জন্য ৬০ ফুট গভীরতার পাইপ বসালেই সেখান থেকে গ্যাস উঠতে থাকে। তখন তা কম হলেও গত দু সপ্তাহ থেকে তার উদগিরণ বেড়ে যায়। আগে দুই এক জায়গা থেকে বের হলেও এখন তা সাত আট জায়গা থেকে বের হচ্ছে। বেশি পরিমাণ গ্যাস বের হওয়ায় সেখান থেকে লাইন টেনে তা দিয়ে চুলায় রান্না শুরু করেন দেলোয়ার পরিবার। এদিকে, চিংড়ি ঘের থেকে ওঠা গ্যাস উদগীরণের সংবাদ পেয়ে গত ৪ জুলাই বিকেলে মিঠাখালী গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা দেলোয়ার শেখের চিংড়ি ঘেরের গ্যাসের উদগিরণ সরেজমিন পরিদর্শন করেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খন্দকার মো. রেজাউল করিম ও জেলা এলজিআরডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুজ্জামান। পরিদর্শন শেষে  দুর্ঘটনায় আশংকায় গ্যাস দিয়ে রান্নার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। 
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খন্দকার মো. রেজাউল করিম বলেন, পর্যবেক্ষণে সেখানে গ্যাসের অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয়েছে, কারণ বের হওয়া দাহ্য পদার্থে আগুন জ্বলছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরিকল্পিতভাবে এ গ্যাসের ব্যবহারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রতিবেদনও পাঠানো হয়। এর প্রেক্ষিত্রে আজ বুধবার ঘটনাস্থলে আসেন বাপেক্স বিশেষজ্ঞ টিম। দুপুরে উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি ঘের থেকে বিশেষজ্ঞরা ওই নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এ সময় বাপেক্সের জেনারেল ম্যানেজার (ল্যাব) হাওলাদার ওহিদুল ইসলাম, খুলনার সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) তৌহিদুর রহমান, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির বাগেরহাট জেলা আহ্বায়ক নুর আলম শেখসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান হাওলাদার ওহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশেষজ্ঞ দল গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে। এই নমুনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। এরপরই এই গ্যাসের ধরণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এটি শ্যালো মার্স গ্যাস। অর্থাৎ লতাপাতা, গুল্ম পচে ভূমির উপরের স্তরে জমা মিথেন গ্যাস। তারপরও দুই ধরনের পরীক্ষায় একটিতে যদি হায়ার হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি পাওয়া যায় তাহলে সেটি হবে ভূগর্ভস্থ দাহ্য মূল্যবান বাণিজ্যিক গ্যাস।পরীক্ষায় যদি হায়ার হাইড্রোকার্বন না পাওয়া যায় তবে ওই গ্যাসকে মিথেন গ্যাস হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। কিছুদিন উদগীরণ করে একসময় এই গ্যাস শেষ হয়ে যাবে। আপতত এই গ্যাস দিয়ে চুলা চালানো যাবে না। এতে বাড়িসহ আশপাশে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।
এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সমগ্র এলাকাটি এক সময় সুন্দরবনের অংশ ছিল। গাছপালা ও জীবজন্তু মরে পঁচে শত শত বছর ধরে মাটির নিচে রয়েছে। তাই এখানে বিপুল পরিমান গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্যাস পাওয়া গেলে এলাকার অর্থনীতি বদলে যাবে।   


 

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা