• সোমবার   ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৪ ১৪২৯

  • || ১৫ রজব ১৪৪৪

ষাট গম্বুজ বার্তা

সরিষা চাষে সফলতা দেখছেন বাগেরহাটের চাষিরা

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩  

বাগেরহাটে প্রথমবারের মতো স্বল্প ব্যয়ে কম সময়ে সরিষার চাষে সফলতা দেখছেন চাষিরা। ঘেরের পাড়, পতিত জমি ও রাস্তার পাশে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। 
এদিকে, উপকূলীয় এই জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি সরিষা উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপুল পরিমাণ সরিষা উৎপাদন হলে ভোজ্য তেল আমদানি কমবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ। 
সরকারি প্রনোদনা ও কৃষি বিভাগের চেষ্টায় বাগেরহাটের ১২০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন কৃষকরা। 
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অল্প সময়ে স্বল্প খরচে বিঘা প্রতি ২৫ হাজার টাকা লাভ হবে তাদের। 
বাগেরহাট সদরের রণভূমি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর সরদার বলেন, ‘প্রথম বার ঘেরের পাড়ে এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। মাত্র ছয় হাজার টাকা খরচে আশাকরি ৩০ হাজার টাকার সরিষা বিক্রি করতে পারবো। আগামীতে আরো বেশি জমিতে এই ফসলটির চাষ করবো।’ 
একই গ্রামের শেখ ইব্রাহিম নামের অপর এক কৃষক বলেন, ‘সবজি চাষ শেষে জমি ফেলানো থাকে। তাই এবার কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় সরিষার চাষ করেছি। যেভাবে গাছে ফুল ধরেছে তাতে আশা করছি ভালো ফলন পাবো। সরিষা থেকে যা আয় হবে সেটা হবে আমার জন্য  বাড়তি আয়।’ 
বাগেরহাট সদরের ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গংগা মনি পাল বলেন, ‘আমরা কৃষকদের ডোর টু ডোর গিয়ে পতিত জমিতে চাষিদের সরিষা চাষে উদ্ধুদ্ব করেছি। প্রথম বারের মত ফলনও ভালো হয়েছে।’ 
বাগেরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘সরিষা তেলের আবাদ বাড়াতে ঘেরের পাড়, পতিত জমি ও রাস্তার পাশে তিনশো কৃষকদের মধ্যে বারি-১৪ জাতের এক কেজি করে সরিষার বীজ, এক কেজি ইউরিয়া ও ১০ কেজি ডিএপি সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ১০০ কৃষক সরিষা চাষ করছেন। আশাকরি বাগেরহাট সদরের চার শতাধিক সরিষার চাষি ভালো ফলন পেয়ে সফলতার মুখ দেখবেন।’ 
তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে আবাদের পরিমান বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’ 
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে তেল ফসলের আমদানি নির্ভরতা কমবে। বাগেরহাটে এবছর ২৯০০ জন কৃষক সরিষা চাষ করেছেন। ১৪৪০ মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকরা সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে প্রতিমণ সরিষা বিক্রি করতে পারবেন।’

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা