• সোমবার   ১৬ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৯

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩

ষাট গম্বুজ বার্তা

কেন বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবেনা

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২২  

দেউলিয়া প্রায় শ্রীলংকার অর্থনৈতিক অবস্থা এখন সঙ্গিন। দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার ভয়াবহতার কারণে জনবিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গতকাল তারা রাষ্ট্রপতির প্রাসাদে আক্রমণ করেছে, আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কারফিউ জারি করেছে। ১০ ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং চলছে শ্রীলঙ্কায়, দেনার দায়ে অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। অনেকে গাড়ি চালাতে পারছেন না, দোকানপাটে লম্বা লাইন দিয়ে জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে। বিদেশি ঋণের দায় মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে পণ্য আমদানি করতে পারছে না। এমনকি তেল আমদানির করার ক্ষেত্রেও এক ভয়ঙ্কর সংকটের মুখে পড়েছে। শ্রীলংকার এই অবস্থার পর অনেকে বলার চেষ্টা করছে যে, অপরিকল্পিত এবং অনুন্নয়নশীল পরিকল্পনায় মেগা প্রকল্প এরকম পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বলার চেষ্টা করছে যে, শ্রীলঙ্কা থেকে শিক্ষা নিতে হবে, শ্রীলংকার মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশেও হতে পারে। গত ১৩ বছরে বর্তমান সরকার অনেকগুলো বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং এই প্রকল্প গুলো প্রায় শেষ পর্যায়ে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের মতো বড় বড় প্রকল্পগুলো বাংলাদেশে গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের উন্নয়নের দৃশ্যপট রচনা করেছে। এই উন্নয়নের ধারার প্রেক্ষিতে সংশয়ী কেউ কেউ মনে করছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি কি শ্রীলংকার মতো হতে পারে? কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন যে, শ্রীলংকার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পরিস্থিতি বাংলাদেশ কখনোই হবে না। না হওয়ার পেছনে অর্থনীতিবিদরা পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন।

১. বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলো জনসম্পৃক্ত: বাংলাদেশের যে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তার সবই জনসম্পৃক্ত এবং জনগণের কল্যাণে। জনবিচ্ছিন্ন কোন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি এবং অপরিকল্পিত কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাংলাদেশের জিডিপিতে অবদান রাখবে এবং দেশের অর্থনৈতিক  উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। যেমন- ধরা যাক, পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে এবং এটি আমাদের অর্থনীতিতে একটি বড় অবদান রাখবে। পাশাপাশি মেট্রোরেল হলে ঢাকা শহরের যানজট কমবে, এমনকি মানুষের কর্মমুখরতাও বৃদ্ধি পাবে। কাজেই, জনসম্পৃক্ত মেগা প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন দায় হবে না বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক অবদান রাখবে।

 

২. গার্মেন্টস এবং রপ্তানি: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো নয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস রপ্তানিতে বিশ্বে এখন দ্বিতীয় এবং করোনা সঙ্কটের মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানি ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিকল্প রপ্তানির চেষ্টাও চলছে। এরকম পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক ভালো এবং আমাদের বৈদেশিক রিজার্ভ যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো।

 

৩. প্রবাসী বাঙ্গালীদের রেমিটেন্স: বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম একটি ভিত্তিমূল হলো প্রবাসী অভিবাসীদের রেমিটেন্স। এই রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় একটি ভিত্তি দিয়েছে। এই রেমিটেন্সের কারণেই বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের দায় মেটাতে পারছে এবং উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে পারছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় শক্তি, যেটি শ্রীলংকার ছিল না।

 

৪. ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পের কর্মক্ষমতা: বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় চালিকা শক্তি হলো ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রাণশক্তি। তারা বেঁচে থাকার জন্য নানারকম উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে জড়িয়েছেন এবং এমনভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন যে বাংলাদেশ কখনোই অর্থনৈতিক একটি সংকটের মধ্যে পড়তে পড়বেনা।

 

৫. খাদ্য উৎপাদন: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি জায়গা হলো কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, খাদ্য উৎপাদন। বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে বটে কিন্তু খাদ্যের স্বল্পতা দেখা যায় না। বাংলাদেশের কৃষির একটি অসাধারণ শক্তি রয়েছে। এমনকি করোনাকালের মধ্যেও বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনে সাফল্য দেখিয়েছে।

 

আর এইসব কারণে বাংলাদেশের অবস্থা কখনো শ্রীলঙ্কার মতো হবে না। বরং ধারণা করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রধান ৩০টি অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে একটি হবে।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা