• শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৭ ১৪৩১

  • || ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ষাট গম্বুজ বার্তা

টুংগীপাড়া চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বাবুলের অপকর্মের তথ্য ফাঁস

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ৫ মে ২০২৪  

টুংগীপাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বাবুল শেখের অপকর্মের তথ্য ফাঁস । ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র ছায়ায় থেকে গড়ে তুলেছে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য স্বর্গ এমন কোন অপকর্ম নাই সে এবং তার দলের লোকেরা করেনা । চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল এবং বিচার সালিশের নামে চাঁদা আদায় সহ বিভিন্ন অপকর্ম করে গড়েছেন ত্রাসের স্বর্গ রাজ্যে হয়েছেন টাকার কুমির । তার তিন স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও নারী লোভী । শিক্ষা যোগ্যতা না থাকলেও মানুষের উপর চোখ রাঙাতে দ্বিধাবোধ করে না । এবার নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা তার এই অপকর্ম দেখে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

বাবুল শেখ রাজনীতির পাশাপাশি ঠিকাদারি, ইট ভাটা (মেসার্স বাবুল ব্রিকস) ও বালুর ব্যবসা করেন। ব্যক্তির তিন বউ এবং ২ ছেলে রয়েছে। বাবুল শেখ নিরক্ষর এবং হিংস্র স্বভাবের। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় পদ এর প্রভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ প্রদান, টেন্ডার বাণিজ্য, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন বিশৃংখলা মুলক কর্মকাণ্ডে তিনি এবং তার আস্থাভাজন ব্যক্তিরা যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া তিনি দলীয় পদ পাওয়ার পর টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হিংসাত্মক ও বিভাজনের রাজনীতি গড়ে তুলেছেন, যা আওয়ামী লীগ রাজনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

বাবুল শেখের চাচা আফজাল মাস্টার ( ২০০০- ২০০৫ সাল পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক  ছিলেন) গত ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এবং ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ গণফোরাম থেকে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে  টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ-৩) আসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিপক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া আফজাল মাস্টারের ছোট ভাই জিল্লাল শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক (মেয়াদকাল-১৯৯৮- ২০০০ পর্যন্ত) ছিলেন। উল্লেখ‍্য, বাবুল শেখ এর সাথে বিএনপি দলীয় আফজাল মাস্টার ও জিল্লাল শেখ এর সুসম্পর্ক রয়েছে । তার মামা ইয়াহিয়া শেখ ফ্রিডম পার্টি থেকে আগত বর্তমানে টুঙ্গিপাড়া যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শেখ একজন নিরক্ষর ব্যক্তি যিনি কখনও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতি করেননি। তিনি সরাসরি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হন এবং উক্ত পদ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রাপ্ত হন।

বিভিন্ন স্থানে জমি দখল পাটগাতি ইউনিয়নের চর গওহরডাঙ্গায় নিজ ৩ একর এবং অন্যের জমি দখলকৃত ৬ একর মোট ৯ একর জমির উপর তার ইটভাটায় ব্যবহৃত জমির জন্য চিতলমারী উপজেলার এবং জোর করে উক্ত জমিতে ইট কাটার কাজ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ইটভাটায় ব্যবহৃত মাটি অন্যের মালিকানাধীন ফসলি জমি থেকে জোর করে কেটে এনে ইট তৈরিতে ব্যবহার করে। এছাড়া তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় পদ ব্যবহার করে মধুমতি নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বালুর ব্যবসা পরিচালনা করেন। উল্লেখিত ইটভাটার নিম্নমানের ইট এবং অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালু তিনি তার ঠিকাদারি কাজে ব্যবহার করেন।

গত ২৪ মার্চ ২০১৯ তারিখে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাবুল শেখ বর্তমান টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সোলায়মান বিশ্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। উক্ত নির্বাচনে সোলায়মান বিশ্বাস বাবুল শেখ এর চেয়ে ২৮ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন (বাবুল শেখ ২৭ হাজার ৩২ ভোট এবং সোলায়মান বিশ্বাস ২৭ হাজার ৬০ ভোট প্রাপ্ত হন)। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বাবুল শেখ এর নির্দেশে পাটগাতি বাজারের নতুন বাসস্ট্যান্ডের সামনে টুঙ্গিপাড়া -নাজিরপুর-ঢাকা হাইওয়ে  গাছের গুড়ি ফেলে ব্লক করে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পরবর্তীতে পাটগাতি পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত সোলায়মান বিশ্বাসের সমর্থকারী ২০ জন দোকানীর দোকান বাবুল শেখ এর আস্থাভাজন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, টুঙ্গিপাড়া  উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা আগুন জ্বালিয়ে আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতি করে। উক্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে তৎকালীন টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল কবির এর নির্দেশে পুলিশ প্রায় ১৫০০ রাউন্ড গুলি করে।

গত ২২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্ণি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ হোসেন জমাদ্দার এবং সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাদশার সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষে ০৭ জন আহত হন এবং গত ৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে বর্ণি ইউনিয়নের মৃত্তিকা বাটি এবং বাসুরিয়া গ্রামের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে ০৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আহত হন। উভয় ঘটনার পেছনে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শেখ এর ইন্ধনে উক্ত সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। 

 টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শেখের ছত্রছায়ায় একাধিক মাদক মামলার আসামি এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল এবং অবাধ মাদক ব্যবসা করছে। তাদের কাছ থেকে বাবুল শেখ মাসোহারা নিচ্ছে । 

পুলিশ প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে মাদক কারবারিদের আশ্রয় প্রদান করা ছাড়াও বাবুল শেখের নারী আসক্তি রয়েছে। 

 বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্ট এর আওতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়ায় অসহায়, দুস্থদের জন্য ঘর প্রতি ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে বাবুল শেখ এর উপর ঘর নির্মাণের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ০৫টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার জন্য মোট ১৫০টি ঘরের তালিকা প্রনয়ন থেকে শুরু করে ঘর নির্মাণে তত্ত্বাবধান এবং অসহায়, দুস্থদের মধ্যে ঘর বরাদ্দের দায়িত্ব পালন করেন। ঘর বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। 

 প্রতিদিন তার দলীয় কার্যালয়ে সালিশী বৈঠক বসে থাকে। অধিকাংশ সালিশ বৈঠকে উভয় পক্ষের নিকট হতে অর্থ গ্রহণ করে বাবুল শেখ সালিশ মীমাংসা করে থাকেন।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা