• সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ২ ১৪৩১

  • || ০৫ শাওয়াল ১৪৪৫

ষাট গম্বুজ বার্তা

পর্যটন ও পণ্য পরিবহনে মোংলা বন্দরকে আনা হচ্ছে রেল সেবার আওতায়

ষাট গম্বুজ টাইমস

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৩  

ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে রেল প্রকল্পের ৯৬ শতাংশ কাজ। আর চলতি বছরের জুনের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পণ্য ও পর্যটন পরিবহনে মোংলা বন্দরকে আনা হচ্ছে রেল সেবার আওতায়। এ লক্ষ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে খুলনা-মোংলা পর্যন্ত ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেল সেবা চালু হলে ভারত, নেপাল ও ভূটানের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হবে, বাড়বে পর্যটকের সংখ্যা। রেলপথ না থাকার কারণে এতদিন মোংলা বন্দরের বড় বড় কন্টেইনার পরিবহনের সমস্যা হতো। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে পর্যটক পরিবহনেও সহজ হবে। দীর্ঘ ৭৩ বছর পর মোংলা সমুদ্র বন্দরে রেলপথ যুক্ত হচ্ছে।
এনিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বন্দর সংশ্লিষ্ঠদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। বন্দর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সার্জিনা ইসলাম বলেন মোংলা থেকে ট্রেনে উঠে খুলনা কিংম্বা ঢাকা যাবো এটা সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছিনা, কারণ এটা আমাদের সপ্ন ছিলো। এখন শুধু সপ্নটা পূরণের অপেক্ষার প্রহর গুনছি। এ খবরটা শুনে আমরা খুবই আনন্দিত।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী এইচ এম দুলাল, মশিউর রহমান ও ইকবাল হোসেন বলেন, মোংলা দেশের অন্যতম সমুদ্র বন্দর হলেও এখানে কোন রেল সংযোগ ছিলনা। ফলে বন্দরটিতে অন্যান্য দেশের বড় মালবাহী জাহাজ ভিড়তে আগ্রহ দেখাচ্ছিল না। বরং সব বড় বড় জাহাজ চট্রগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর করে। তাতে মোংলা বন্দর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল। যদিও মোংলা বন্দরকে রেল সেবার আওতায় আনতে ইতোপূর্বে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
বর্তমানে বাংলাদেশের আর্থিক সমৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে ভারত, নেপাল ও ভূটানসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক কর্মকান্ড সম্প্রসারনের লক্ষ্যে মোংলা বন্দরকে রেল সেবার আওতায় আনা হচ্ছে। এতে করে মোংলা বন্দরে অর্থনৈতিভাবে ব্যপক পরিবর্তন ঘটবে।
প্রকল্প সুত্র জানায়, খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বিগত ২০১০ সালে অনুমোদন করে। প্রকল্পটি তিনটি ভাগে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার মধ্যে প্যাকেজ-১ রেললাইন নির্মাণ, প্যাকেজ-২ রুপসা নদীর ওপর রেলসেতু ও প্যাকেজ-৩ টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং সিস্টেম। এসব প্রকল্পের আওতায় মুল লাইনসহ রেলওয়ে ট্রাকের দৈর্ঘ্য ৮৬ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। তারমধ্যে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ। আর রুপসা নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রপসা রেলসেতু। ইতোমধ্যে ওই সেতুর কাজ প্রায় শতভাগ শেষ হয়েছে। তাছাড়া ৩১টি ছোট সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর ১০৭টি কালভার্টের মধ্যে ১০৫টির কাজও শেষ হয়েছে। ৯টি ভিইউপির নির্মাণ কাজ এবং ২৯ এলসি গেটের ২৬টি কাজ শেষ হয়েছে।
এছাড়া ৭টি ষ্টেশন বিল্ডিংয়ের মধ্যে ফুলতলা, আড়ংঘাটা ও মোহাম্মদ নগরের কাজও শেষ হয়েছে। বাকি ৫টি ষ্টেশনের মধ্যে কাটাখালি ৮০ শতাংশ, চুলকাঠি ৭ শতাংশ, ভাগা ৭২ শতাংশ, দিগরাজ ৯৮ শতাংশ ও মোংলা ষ্টেশন নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রেলপথটি চালু হলে মোংলা বন্দরসহ পুরো এলঅকায় অনেক পরিবর্তন আসবে বলে জানা গেছে।
নির্মাণাধীন রেললাইন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মোঃ আরিফুজ্জান বলেন, খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৬ শতাংশ শেষ হয়েছে।
২০২৩ সালের জুনের মধ্যে পুরো রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দ’দফায় ডিপিপি সংশোধনের পর প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৬০ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। তার মধ্যে ভারতীয় লোন রয়েছে ২ হাজার ৯৪৮ কোটি ১ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা। বাকি ১ হাজার ৩১২ কোটি ৮৬ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকার সরকারি ফান্ড থেকে ব্যয় হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী জানান, মোংলা বন্দর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ছিলনা। এখন খুলনা-মোংলা রেলপথ চালু হলে সড়ক পথে পণ্য পরিবহন চাপ কমে যাবে। এছাড়া পণ্য পরিবহন ব্যয় ও সময়ও অনেক হ্রাস পাবে। পাশাপাশি মোংলা বন্দরের নৌ, সড়ক ও রেলপথের মাল্টিমোডাল ডোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে প্রতিবেশি দেশ ভারত, নেপাল ও ভূটানের পণ্য পরিবহন অনেকটা সহজ হবে বলেও জানান তিনি।

ষাট গম্বুজ বার্তা
ষাট গম্বুজ বার্তা